Breaking News
Home / কবিতা / রবিবারের সান্ধ্য কবিতার আসর-৬

রবিবারের সান্ধ্য কবিতার আসর-৬


রবিবারের কবিতা

কবিতার অলংকরণ: অনির্বাণ পাল

ক্ষরণ

দী পা পা ন

না-জন্মানো কত কন্যার ভ্রূণ ক্ষরিত হয়ে যায়।
জন্মের আগেই মৃত্যু এসে খায় জীবনের হৃদ।
যোনিতে সিঁদ কেটে ঢুকে পড়ে কালো কালো হাত।
প্রভাত হয়না আর। অনুভূতি জুড়ে জেগে থাকে ছাই।
জীবন এখনও এমন অশ্রুজ, গর্ভ হাঁসফাঁস করে শূন্যতায়।
গৃহহীন নিষিক্ত ডিম্বানু ধুয়ে যায় গোপন আঁধারে।
কোথাও অন্যূন পলাশ ঝরে পড়ে পথে। তার লাল রঙ যেন
রক্তের সহোদর। রক্ত অবলা।
এ নিদারুন হত্যা; তবু হত্যা নয় সেভাবে এখনো।
নষ্ট ঋতুতে তাই মুদ্রিত কৌশল অলীক প্রস্তাবে মুছে রাখে অস্ত্রের ফলা।

না-জন্মানো কত কন্যার পালক খসে যায়, পুড়ে যায় ডানা।
পরিযায়ী জীবন অনাহূত।
সমাজ কাকে বলে জানো! কাকে বলে সমাজ, বিচারক!
কেন তার হাত লিঙ্গের মাপকাঠি দিয়ে ভ্রূণের বিভাজন করে,
বিয়ের ওজরে লিখে রাখে নগ্ন বাহানা! নারী কি কেবল
মূর্তিমতী যৌনতা শুধু! মেধা তা কিছু নয়!
ক্ষিপ্র বাঘিনীর মত গতিময় পায়ে আজও তার বেড়ির প্রাকার!
আমিও তো নারী, কতবার জরায়ু থেকে ক্ষরিত হয়ে যাব বলো,
আর কতবার!

রামী-চন্ডীদাস

জুঁ ই রা য়

রামী-নাম্নী মৎস্যটিকে
গেঁথে নিয়ে বড়শিতে
চণ্ডীঠাকুর চলেছিলেন।
বাধ সাধলে পড়শিতে
রামী তুমি ভাগ্যবতী, পতি
মরেও সাধ্বী-সতী
চণ্ডীবাবুর মন-বেদীতে
প্রতিষ্ঠিতা ওঁর সীতে
অনেক আগের যুগ ছিল সে
রামী-চণ্ডীদাসের
প্রেমের বন্ধ নিষ্কলঙ্ক–
বুঝল না কেউ তা সে
চণ্ডীঠাকুর পেলেন না পার-
বন্ধ হল দেবের দুয়ার
রজকিনী রামী-নাম্নী নারী
ভালবেসে…

আজ জোছনা রাতে

ফ জ লু ল হ ক মি ল ন

ঐ সুদূরে নীলিমার নীল ছুঁয়ে বসে আছো তুমি
প্রিয়তমা, আমি আবার আসবো
সবুজ আমার কী যে ভালো লাগে…।

মক্তবে পড়া আয়েশা আক্তারের সাথে
একবার হারিয়ে ছিলাম
আম আঁটির বেপু বাজাতে বাজাতে
পুরাতন ইস্টিশনের পাশের বটতলায়।
তারপর কতো দিন গেলো
আয়েশা আক্তার হারিয়ে গেলো অবেলায়।
‘ ঘরে সে এলো নাতো, মনে তার নিত্য আসা – যাওয়া ‘।

পাড়ার বন্ধু হরিপদ, রবীন্দ্র গান গলায় বেশ মানায়,
কোন এক জোছনা থই থই রাতে
বলল – চল, নাও বাইয়া আয়ি।

মেঘনার পাড় ঘেষা জেলেদের গ্রাম,
সবুজে সবুজে ছাওয়া।
আসমান জুড়ে হেমন্তের মরা চাঁদ
বাউরি বাতাস দোল দেয় কোন্দার তলায়!
হরি গান ধরে ‘ আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে ‘।

গান শেষে হরিপদ বলে – আয় জাল্লাপাড়া যাই
কপিলা দি ঠিকই দেখবি ঘাডে বইয়া আছে
‘আমারে নিবা মাঝি লগে” অপেক্ষায় অপেক্ষায়
যৌবনের জৌলুস হারিয়েছে কবে!

আজ জোছনা রাতে জানি ও গায়ের মালু পাড়ায়
গনেশের বউ উদ্ভট সাজে পাড়ার ছোকরাদের ভ্রুটিপনী দিবে!

অমাবস্যার চাঁদ

রি ম্পা না থ

ঘুমের শরীরের উপর শিশির জমা হলে
মনের গভীরে মেঘের ঘোরাফেরা ধরা পরে
উপোসী চোখ জলের ধার দিয়ে না গেলে
অমাবস্যার চাঁদের গায়ে রুটির উদ্ধৃতি লেপে যায়
নাটকীয় মুহূর্তে এক বৃদ্ধা লঙ্কা রোদে দেয়
একটু একটু করে গর্তগুলো উপচে ওঠে
চিরুনি ভর্তি চোখ গন্ধের আশায় হাত বাড়িয়ে
দেশলাই কাঠির ইচ্ছে পোড়ায়…

আরও দেখুন: রবিবারের সান্ধ্য কবিতার আসর-৫

Check Also

রাজস্থানের ভৌতিক গ্রাম

রাজস্থানের রহস্যময় কিরারু গ্রাম

দেবশ্রী চক্রবর্তী: ভারতবর্ষের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একখন্ড মরুপ্রান্তরের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে রহস্য এবং রোমাঞ্চ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *