Breaking News
Home / রবিবারের আড্ডা / গল্প / রবিবারের ছোটগল্প চাঁদ ছোঁয়ার গল্প লিখেছেন সাগরিকা রায়

রবিবারের ছোটগল্প চাঁদ ছোঁয়ার গল্প লিখেছেন সাগরিকা রায়

ছোটগল্প

গল্প

Illustration: Preety Deb

কচু গাছের আড়ালে দাঁড়ালেও চান্দু নিজেকে বেশ লুকোতে পারে।গজু বলে, ভাই রে, তোর তো সুবিধা আর সুবিধা। বেগুন ক্ষেতেও কেমন লুকোতে পারিস।
তা পারে। জাঁক করে বলার নয় কথাটা, কিন্তু যেটা পারে, সেটা ওর ক্ষমতা। লোকে বারবার বলে, তোর মহা সুবিধা। আজ মনটা ভাল নেই। আজ দীপিকাও…। মনটা ভাল নেই চান্দুর এভাবে বেঁচে থেকে লাভ? তো কচু গাছের আড়ালেই ছিল চান্দুL প্রাতঃক্রিয়া সারতে এসে ভাবনায় বুঁদ হয়ে ছিল। এই জমিটা মনিবাবু কিনেছে চার বছর আগে। চান্দুর কাছ থেকে। চান্দুর যে কত দিকে মুশকিল! পারল না চান্দু মুখের উপর না বলে দিতে। কেউ কি আর এই জমিকে চান্দুর জমি বলবে? চান্দুও বলেনা, কিন্তু ভাবে। তাই চিরকালের অভ্যেস মত এখানেই আসে প্রাতঃক্রিয়া সারতে। এই সকালবেলাতেই শুধু! অন্য সময়? বাবা!
জমির উপর জুতোর শব্দটা চটর পটর করাতে ভাবনার সুতো কেটে গেল। তবে, চান্দুর মাথা বেশ ঠান্ডা। না হলে এমন অপরাধ মুলক কাজ করার সময় মনিবাবু দেখে ফেললে কি হবে… তা জানে চান্দু। মনিকে লুকিয়ে থাকা জরুরি- এই বোধটুকু মাথায় রাখতে হবে। চান্দু চোখ বুজে ফেলে। ইস, আজ ধরা না পড়ে যায় ও!
জুতোর শব্দটা ক্ষেতের অন্য পাশে চলে যাচ্ছে। কচুগাছের আড়ালে বলে চান্দুকে দেখা যায়নি। এই এক মহাসুবিধে চান্দুর। মাঝে মাঝে কথাটা নিজেরও মনে হয়। বর্মণ বলে, মনিবাবুকে ভগবান চোখ দেয় নাই, সিখানে দুখান টর্চ দিছে। ঠিক কথা। বিশ্ব সংসারের কোথায় কী হচ্ছে, সব জানা লোকটার। এর জন্য এত সম্পত্তির মালিক। চান্দু সমঝদারের মত মাথা নাড়তে গিয়ে চমকে ওঠে।
-কি রে বামনা! এই খানে কী করিস তুই? মনিরবাবুর ক্ষুদে টর্চ চান্দুকে দেখিয়ে দিয়েছে।
তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ালেও মনের ভিতরে রাগটা ঘুসঘুস করে। বামনা? যে জ্বালা বুকে চেপে বুকের ভিতরে ছাইএর পাহাড় জমিয়ে তুলেছে, সেই জ্বালায় ফের শুকনো কাঠ? ছোট্ট শরীরখানা নিয়ে লাফ দিয়ে মনির হাঁটুর কাছে পড়ল। মনি ব্যঙ্গ করেন, -ও বাবা, এযে দেখি ব্যাঙ্গের মত লাফায়।
বটে? ব্যাং? রাগে ডাইনে বায়ে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাকাতে থাকে চান্দু। ঠিক যেন কটকটি ব্যাং। এতকাল যে সাহস হয়নি সেই সাহসের মাথায় দাঁড়িয়ে তুর্কি নাচন নাচতে থাকে চান্দু। অবাক হতে হতে কালিয় দমন পালার কথা মনে হয় মনিবাবুর।
-আমি বামনা? ভুলে গেলে, এই বামনার জমির উপর দাঁড়িয়ে আছো? বামনা ছিল তখন তোমার ভাই! শোন, এই জমি আমার। যখন খুশি আসব, যাব। তোমার ফসল ত নিচ্ছিনা! তড়তড়ে শব্দের তুবড়ি ছুটিয়ে দেয় চান্দু। বামনা চান্দু। লম্বা চওড়া মনিবাবুর মুখের উপর।
অবাক মনিবাবু প্রথমে জবাব দিতে পারেন না। পরক্ষনেই সামলে নিলেন নিজেকে- কেষ্ট, মনিবাবুর চড়া গলা অন্দর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কেষ্ট ক্ষেতে জল দেওয়া ছেড়ে দৌড়ে আসে। হাতের পাঞ্জা দুটো ছোটার তালে তালে দুলতে থাকে। চান্দু চোখ বুজে ফেলে। ওই হাতের একখানা চড় চান্দুকে শুইয়ে দিতে পারে। এখন উপায়? কেষ্ট কি ওকে দেখতে পাবে?
পায় কেষ্ট দেখতে। এসব ক্ষেত্রে মাটির ভেতরে সেঁধোলেও খুঁজে বের করতে হয়, ও জানে ও। সুতরাং কচুগাছের আড়াল থকে চান্দুকে টেনে আনে কেষ্ট। টানতে টানতে চোখ মটকে হাসে- এত টানাটানিতে যদি একটু লম্বা হোস!
খর দুপুরে ঝিকা গাছের নীচে বসে থাকে চান্দু। আজ শুরু থেকেই দিনটা খারাপ। আসলে তার জন্মটাই যে খারাপ। জন্ম দিয়ে মা মরে গেল, বাপ খবরও রাখল না। এক তুতো মাসির কাছে মানুষ হল। সে মাসিও নেই। মাসির জমি জিরেত যা পেয়েছিল, লোকে ঠকিয়ে নিয়ে নিল। বসত বাড়িটুকু আছে, তা সে নিতেই বা কদিন?
দুপুরের গরম রোদে নিশ্বাস ফেলে চান্দু। মানুষ সম্পদ করে ছেলে বউএর জন্য। চান্দুর আর ওসব হবে কবে? কে তাকে বিয়ে করে সংসার সাজাবে? দীপিকা? যখন দরকার পড়ে, তখন কত না আদর। সেদিন নিমের ডাল ভেঙ্গেছে দাঁত মাজবে বলে, বাহা শাড়ি পরে কোমর দুলিয়ে যাচ্ছিল দীপিকা। চান্দু কেবল ডেকেছে- দিপু, ও দিপু, তুমি ঘাগরা পড়না কেন? টিভিতে যেমন দেখায়। সাপের মত তিড়িং বিড়িং করে উঠল দীপিকা- বাটুল! শখ তো কম নয়? মেয়েছেলে দেখবে বলে বসে আছ এখানে?
চান্দু বলতে পারল না যে সবুজ শাড়িতে ওকে লাউডগা সাপের মত দেখাচ্ছে। দিপু তখন চেঁচিয়ে যাচ্ছে- ওই শ্রীমুখ সাত সকালে দেখিও নাতো। দিনটাই খারাপ যাবে।
নিমডাল হাতেই রইল, মুখে দেওয়ার কথা মনেই এল না। অথচ মুখটা তেতো হয়ে গেল।
ঘরে এসে আয়নায় মুখ দেখে চান্দু। এই মুখের জন্যই কি দিন ভাল যায়না ওর? দিপু কি ওকে বিয়ে করবে না কোনও দিন? বর্মন বলে– তুই ভাই বোকা। লম্বা মেয়ের সঙ্গে কি বামনের বিয়ে হয়? বিছানায় কি মই নিয়ে ঢুকবি?- বলে খিক খিক হাসতে থাকে।
তারপর হাসি থামিয়ে চকচকে চোখে দেখে চান্দুকে। হবে, আড়াই ফুট হবে।
-কিছু মনে করিস না ভাই, তুই কতটা লম্বা? মাপ নিছিস কখনও?
-মানে? তুইও ঠাট্টা করিস?
-আরে দূর, রাগ করিস না রে। বলছি, তোর যদি আড়াই ফুট মাপ হয়, তবে একটা চাকরি আছে। সে চাকরিতে ভাই ভারি মজা। বলতে বলতে পকেট থেকে একটা পাকা কলা বের করে খেতে থাকে বর্মন।
উসখুস করে চান্দু। যা বলার বলুক বর্মন। মনটাকে অস্থির করিয়ে দেয় কেন?
-ধুপগুড়িতে একটা সাক্কাস পাট্টি এসেছে। অমর সাক্কাস। বিরাট বেপার। আমি এই- পরশু, হ্যাঁ, পরশুই তো গিছিলাম, দিদির ওই খানেই বিয়া হিছে। দেখে এলাম। কত যে নোক, বাঘ, সিঙ্ঘ,হাতি, আর কত যে…!
ধ্যাত্তেরিকা! ফালতু বকে। কি বলবি বল নারে ভাই। চান্দু বিরক্ত হচ্ছিল।
–আসল কথাটা কি?
-ওইখানে কাজের খোঁজ করছিলাম। তা তারা বলল এখন কিছু। খাটো লোক চাই, এছাড়া অন্য লোক দরকার নাই। বহু খাটো দেখলাম, তবে তোর মত ভাই কেউ নেই। যাবি তো বল। চাকরি কিন্তু পাক্কা।
মন আজ আর ভাল হবে না। এই চেহারার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই চান্দুর। ইস্কুলে গেছিল, ছাত্র হাসে, মাস্টার হাসে! হাসবেই। যেখানে গেছে, সেখানেই এক কথা। তোর বাপ মা-ও কি এমন ছিল? ছোট ছেলেরা জানতে চায়,
-মাটির পিপড়ে গুলো দেখতে পাও?
কিন্তু চাকরি যে দরকার। দুর্গা পূজার সময় ক্রান্তিহাটের প্যান্ডেলে শিব সেজে দাঁড়ানো ওর একটা পেশা। সে বছরে চারদিন। ভান্ডারী পুজোর মেলাতেও শিব সাজে। সাতদিন। বাকি সময় খুব কষ্টে যায়।
আলপথ দিয়ে ফিরে আসতে আসতে বড় ঘুমপায় চান্দুর। শুকনো জায়গায় বসে পড়ে, তারপর শোয়। উপরে বিরাট আকাশ তাকে দেখে। স্নেহ কি এমন হয়ও? আকাশের মত ওকে উপুর হয়ে আড়াল করে রাখবে এমন? চোখে যে কেন জল আসে! আজ সবই অন্যরকম।
[আরও পড়ুন: রবিবারের ছোটগল্প রামদুলালের ঢোল লিখেছেন মিলন বনিক]
২.
তলে তলে সব ব্যবস্তা পাকা করেই তুলেছিলেন মনিবাবু।চান্দুর মাসির জমি নেহাত মন্দ ছিল না। সবই নেওয়া হয়েছে। বাকি বসত বাড়িটুকু। টুকুটাই বা ছাড়ব কেন? ভেবেছেন মনিবাবু। তাছাড়া এই গায়ে মনি ছাড়াও চান্দুর মাসির জমির দিকে নজর দেওয়ার লোক কম নেই। সবাইকে ফাঁকি দিয়ে কাজ হাসিল করা? বাপরে! কিছু মারপ্যাচ নিজের জানা, কিছুর জন্য শহরে উকিলের কাছে যেতে হচ্ছে। আইনের ব্যাপার বেয়াইনে আনতে হলে লেখাপড়া জানা লোক চাই। সবটা হাতাতে পারলে ফাউ হিসেবে একটা কামলা মেলে। চান্দু।
কাজ সেই মত এগোছিল।কিন্তু আজ চান্দুর রণচণ্ডী মূর্তি দেখে মনিবাবু অবাক। এত সাহস চান্দুর! পেছনে কেউ না থাকলে এত সাহস আসে কি করে? পেছন-পার্টি লেলিয়ে দিচ্ছে ওকে মনির পেছনে! তার উদ্দেশ্য? সোজা কথা। চান্দুর টুকু বাড়িটা তারও চাই। এখন কিম কর্তব্য? তাওয়া গরম থাকতে থাকতে রুটি ভেজে নাও। কাল যেতে হবে আলিপুরদুয়ার কোর্টে। উকিল ধরতে হবে। চান্দুর জমি, হরিদাস রাইএর খেতি বাড়ি বেচা জমি, মানদাবালার বর মরল ভ্যান রিকসা থেকে পড়ে, তো বিধবাকে, যাকে এতদিন মনিবাবুই দেখাশোনা করছেন, তারি পাওনা বলে বাড়িটা হাতিয়ে ধুমদাম সব বেচে দিয়েছেন পবনরাম মাড়োয়ারির কাছে। এখন চান্দুর বাড়িটা হাতাতে পারলে হত। তবে, মফসস্‌ল জায়গা, এতোগুলো টাকা ঘরে রেখে ডিম পাড়ানোর মানে হয়ও না। কে এসে বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে…! দিনকাল ভাল নয়, মানুষ কিএখন আর সৎ আছে? কাকে বিশ্বাস করবেন? সব ঠক রে ভাই! দীর্ঘশ্বাস ফেলেন মনিবাবু। আজ একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরতে হবে। চান্দুর জমির বেগুন দিয়ে পটাপট ছয় খানা রুটি খেয়ে ফেললেন মনিবাবু। জমি ভাল। ফসল জব্বর হয়েছে। নরম, যেন মাক্কন!
শুয়ে শুয়ে প্ল্যান ফাঁদেন মনি। চান্দুকে কেউ ফুসলাচ্ছে। শত্রুর অভাব নেই। চান্দুকে কিছু টাকা দিয়ে বশে রাখতে হবে। ঝামেলা না পাকায় ব্যাটা! আবার দেখ, উকিলের পিছনে কি কম যায়? প্রতি খেপে টাকা চায়।কথায় বলে ফেল কড়ি মাখ তেল তুমি কি আমার পর? ওদিকে ছেলে জারনালিজম নিয়ে পড়ছে। পড়া কদ্দূর হচ্ছে কে জানে, কিতু সাজুনগুজুন কম কি? লেটেস্ট ডিজাইনের বাইক, মুখ প্রায় ঢেকে যায় এমন সানগ্লাস, জিনসের প্যান্ট, হাতে ব্যাঙ্গে্‌ল, পায়ে স্নিকারস, মোবাইলএর সেট তো নিত্য নতুন, খরচাও বলার মত। কে এক সহপাঠিনি জুটেছে, আলিশা না কি নাম! কে জানে এত কষ্টের টাকা সব ভুতে না খায়!
সকাল হতে না হতে ঘুম ভাঙ্গে। রাতে ঘুম ভাল হয়নি। যা গরম। বউএর চার্ম নেই অনেক দিন, মানদাবালারও। মেনরোডের উপর তার যে ছোটমত কাফেটা আছে, সেখানে জিতের বউদিটা আসে কম্পিউটার শিখতে, তার কথা ভেবেই রাত কেটে গেল। কি দেখতে রে ভাই! যেন রেখা। বেশ ভারি সারি চেহারা। অমনটাই পছন্দ মনির।
কলতলায় দাঁড়িয়ে ঝপাঝপ জল ঢালেন শরীরে। শরীর ঠান্ডা করতে হবে। আজ রোদে ছুটোছুটি আছে। বাড়ি ফিরতে বেলা পেরিয়ে যাবে। বউকে ভাত বাড়তে বলেন। আইনের মারপ্যাচ আছে। পেট ভরা না থাকলে প্যাঁচ বুঝবেন কি করে?
রিকশ পাওয়া গেছে।বাসরাস্তা পর্যন্ত যেতে আরো আধঘন্টা। যেতে যেতে চোখ বুজে আসে। ঘুমটা ভাল হয়নি না? কত কথা থাকে, নিজে নিজে বলতে হয়। সে রেখাই হোক, কি অন্যের সম্পত্তি বাগানোর ব্যাপার।
বাস আসতে দেরি আছে মনে হচ্ছে। একটা বিড়ি না টানলে ঝরঝরে লাগবেনা। সিগারেটে তেমন ধ্বক নেই। মজাও নেই।
দোকানের নিভে যাওয়া দড়িটা ফের ধরাচ্ছে দোকানি,মনি বিড়ি হাতে অপেক্কা করছেন। এমন সময় বাবু!বাবু! চিৎকার কানে এল। মাথায় ঢুকল না এভাবে বাবু বাবু করছে কে? নিবিষ্ট মনটা ছত্রখান হল যখন দেখলেন চান্দুকে। বামন ছুটে আসছে কেন? এই সকালে কী বলতে আসছে এটা? ইহ, লাফাচ্ছে দেখ, যেন একটা কটকটি ব্যাং!
-বাবু, হাঁপাচ্ছে চান্দু- আপনার ব্যাগ বাবু। রিকশায় ছিল। বটতলাতে বসে ছিলাম, দেখি আপনি যাচ্ছেন। আপনি নেমে গেলেন, ব্যাগটা নিতে ভুলে গেলেন। ব্যাগটা নিয়ে রিকশাওলা চলে যাচ্ছিল। আমি ধরে ফেলেছি। বেঁটে লোকটা লাফাচ্ছে। অনেকটা পথ দৌড়ে এসেছে। ছোট ছোট পায়ে। শ্বাস নিচ্ছে বড় বড়।
হাত বাড়িয়ে ব্যাগটা নিতে গিয়ে কেন হাতটা কেঁপে উঠল কে জানে! অনেক টাকা ছিল ব্যাগে। বামন নিশ্চয় জানে না, বা বুঝতে পারেনি। তাহলে যেত টাকাগুলো।
টাকা পয়সা দেখে নিন বাবু। মনে হয়ও সরাতে পারেনি। খুব তক্কে তক্কে ছিলাম কিনা! একগাল হেসে চান্দু বলে- শহরে যাচ্ছেন বুঝি?
যাচ্ছি, তাতে তোর কিরে ব্যাটা? ইচ্ছে হয় এক চড়ে দাঁত ফেলে দি। এত নিষ্ফল নিজেকে কখন লাগেনি! একটু গালাগাল দিতে পারলে হতো। তাও যে পারছেন না মনিবাবু। এত অসহ্য এটাকে কখন লাগেনি। কিড়মিড় করা ছাড়া উপায়?
কি যে রোদ! চোখ ঝলসে যাচ্ছে! তবু তারই মধ্যে একটা বিদঘুটে ছবি চোখের সামনে নাচতে থাকে। দুজনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে, অথচ দুজনের ছায়া দু-রকমের পড়েছে কেন মাটিতে? এত লম্বা চওড়া মানুষের এতটুকু ছায়া? কোন মানে হয়ও? আর বাটুলের ছায়া দেখ, যেন বাসরাস্তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সোজা করে দাঁড় করাও, ঠিক চাঁদ ছুয়ে ফেলবে ব্যাটা।
অবাক হতে গিয়ে গা শিরশির করে মনিবাবুর। ভয় ভয় করে! এমন দৃশ্য ভরদুপুরের রোদে? ভয় হয়ও না?
কেউ কি বিশ্বাস করবে আড়াই ফুট বামনের এত লম্বা ছায়া?
আরও পড়ুন: রবিবারের ছোটগল্প শ্রীদেবী ও বংকু লিখেছেন তৃষ্ণা বসাক

Check Also

রাজস্থানের ভৌতিক গ্রাম

রাজস্থানের রহস্যময় কিরারু গ্রাম

দেবশ্রী চক্রবর্তী: ভারতবর্ষের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একখন্ড মরুপ্রান্তরের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে রহস্য এবং রোমাঞ্চ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *