Breaking News
Home / জীবনী / একজন রিয়েল হিরো নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: যাঁর সামনে হিটলারও মাথা নত করেছিলেন

একজন রিয়েল হিরো নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: যাঁর সামনে হিটলারও মাথা নত করেছিলেন

সবার খবর, নিজেস্ব ডেস্ক: ফ্রান্সে যেমন নেপোলিয়ন বোনাবার্ট, ইতালির মুসোলিনি এবং তুরস্কের মুস্তফা কামালপাশা ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তেমনই জার্মানির ইতিহাসে হিটলারও একই স্থান পেয়েছেন। পৃথিবীর বুকে সব-চাইতে সমালোচিত ব্যক্তি হিসেবে নাম উঠে এসেছে এই একনায়কের। তাঁর কূটনৈতিক ক্ষমতা, অসাধারণ প্রতিভা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে হিটলার জার্মান গণতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিলেন। শুরুতে হিটলার জার্মান সেনাবাহিনীর একজন সাধারন সৈনিক ছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে হিটলার সেনাবাহিনী ত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। পরে পৃথিবীর সব থেকে বড়ো স্বৈরশাসক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন এই ব্যক্তি।
সুভাষচন্দ্র বসু ও হিটলার
সেই সময় হিটলারের জন্যে প্রত্যেকটি দেশই গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটিয়েছে। কিন্তু এক ভারতীয়ের সামনে তাঁকে মাথা নত করতে হয়েছিল একদিন। তিনি আর কেউ নন, বঙ্গ সন্তান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

১৯৪৪ সালে আমেরিকার সাংবাদিক লুই ফিশারের সঙ্গে কথা বলার সময় গান্ধীজী সুভাষচন্দ্র বসুকে দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ওড়িশার কটকের এক সমভ্রান্ত বাঙালি পরিবারে সুভাষচন্দ্র বসু জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। এই সেনাবাহিনী জাপান সরকারের সহায়তায় গঠিত হয়েছিল। জাপান-ও সেই সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। নেতাজীকে ১১ বার কারাদন্ডের সম্মুখীন হতে হয়েছে। ১৯৪১ সালে নিজগৃহে নজরবন্দি অবস্থায় থাকার পরেও তিনি ছদ্মবেশে পেশোয়ার (পাকিস্তান), আফগানিস্তান ও রাশিয়া হয়ে জার্মানিতে পৌঁছে যান।
নেতাজি
মুসোলিনির ফ্যাসিবাদ ও হিটলারের নাৎসিবাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ড। আর এই ইংরেজরাই ভারতকে দখল করে রেখেছিল। তাই নেতাজি ইটালির মুসোলিনি ও জার্মানির হিটলারকে বন্ধু হিসেবে ভেবেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নেতাজি পৌঁছে গেলেন হিটলারের কাছে। প্রথমে হিটলারের কর্মচারীরা নেতাজিকে বলেন, আমাদের নেতা(হিটলার) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত আছেন। বৈঠক শেষ হলেই আপনার সঙ্গে দেখা করবেন। তখন নেতাজি একটি পত্রিকা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলেন। তার আগে বলে নেওয়া ভালো, হিটলার ভারতের রাজনীতি নিয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরে হিটলার বৈঠক থেকে বেরিয়ে এলেন। কিন্তু নেতাজির সঙ্গে দেখা করলেন না। অনেকবার নেতাজির পাশ দিয়ে হিটলার গেলেন কিন্তু কিছু বললেনও না। নেতাজিও নিজে এগিয়ে গিয়ে কিছু বলার ব্যক্তি নন। একটা সময় নেতাজির কাঁধে পিছন থেকে হিটলার হাত রাখেন। নেতাজি হিটলারকে না দেখেও বলে উঠলেন, ‘হিটলার’। হিটলার জিজ্ঞেস করলো তুমি কি করে বুঝতে পারলে? নেতাজি বললেন, আমার কাঁদে কেবলমাত্র হিটলারেরই সাহস আছে হাত দেওয়ার। অনেকক্ষণ দু’জনের মধ্যে নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হলো। হিটলার তার বইয়ে ভারতীয়দের সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর কথা লিখেছিলেন। হিটলারের সামনেই যার ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন নেতাজি। পরে নেতজিকে হিটলার আস্বস্ত করে বলেছিলেন, আমি ওই সব আপত্তিকর কথাগুলি সরিয়ে নেব। নেতাজির সামনে দুঃখও প্রকাশ করেন জার্মানির এই স্বৈরশাসক। নেতাজির কারনেই ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিল, এই দেশ তাদের ছাড়তে হবে খুব অল্প দিনেই।
আরও পড়ুন: দুঃখের দিনে আব্দুল কালামের এই তিনটি বাণী জীবন পাল্টে দিতে পারে

Check Also

আব্দুল কালামের বাণী

দুঃখের দিনে আব্দুল কালামের এই তিনটি বাণী জীবন পাল্টে দিতে পারে

সবার খবর, ওয়েব ডেস্ক: চলার পথের সকল মানব জীবনে সুখ দুঃখ উভয়কে সঙ্গী করে চলতে …