Breaking News
Home / রবিবারের আড্ডা / গল্প / রবিবারের ছোটগল্প যুগান্তর মিত্র-এর ‘ঠাকুরদা’

রবিবারের ছোটগল্প যুগান্তর মিত্র-এর ‘ঠাকুরদা’

ছোটগল্প

ঠাকুরদা

যু গা ন্ত র মি ত্র

ছোটগল্প

ছবি: প্রীতি দেব

ঠাকুরদার উপর আমরা সবাই ভীষণ বিরক্ত ছিলাম। সেই ঠাকুরদা মারা গেলেন আজ সকালে। একটু আগেই তাঁর দাহকাজ শেষ করে বাড়ি ফিরেছি। আটানব্বই বছর বয়স হয়েছিল। বেশ স্টেডিই ছিলেন শেষ দিন পর্যন্ত। ভোরে ঘুম থেকে ওঠা অভ্যেস যে মানুষটার, তিনি যখন বেলা সাতটার পরেও ওঠেননি তখন কাজের মেয়েটি গিয়ে দাদুকে বাইরের জানালা দিয়ে ডাকাডাকি করেও সাড়া না-পাওয়ায় চিৎকার করে সবাইকে জানায়। মা তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে ঠেলাঠেলি করে দেখেন ঠাকুরদা নেই। কাজের মেয়েটির ছুঁয়ে দেখার অধিকার ছিল না, তাই সে ধরেনি। সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ ঠাকুরদা অব্রাহ্মণ কারও ছোঁয়া গ্রহণ করেন না। এমনকি ছোঁয়া হয়ে গেলে শীত কি গ্রীষ্ম স্নান করবেন-ই।

শ্রীদেবী মানে বান্টিকে যখন এ বাড়িতে কাজের জন্য রাখার কথা হচ্ছে, তখন ঠাকুরদা আপত্তি জানিয়েছিলেন। বান্টি সবসময় সেজেগুজে থাকে। যেন এখনই শুটিংয়ে যাবে। সেইজন্য আমার পিসি ওর নাম দিয়েছে শ্রীদেবী। বান্টিও নামটা বেশ খুশি মনেই মেনে নিয়েছে।

– জাতের মেয়ে পাওয়া গেলো না কাজের জন্য?

-তা কি পাওয়া যায় বাবা? বামুনের বাড়ির মেয়েরা কি লোকের বাড়ি কাজ করে সচরাচর? মা তাঁর শ্বশুরমশাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

-সচরাচর কাজ করে না মানে তো কেউ না কেউ কাজ করেই। ঠাকুরদা যুক্তি দেন।

– সে যখন পাওয়া যাবে তখন দেখা যাবে। এখন তো আর পাওয়া যাচ্ছে না! মা পাল্টা বোঝানোর চেষ্টা করেন। এখন আমাদের যা অবস্থা তাতে একজন কাজের লোক না-রাখলেই নয় বাবা।

-আজকালকার দিনে এইসব জাতপাত কেউ মানে না বাবা। মার জন্য তোমার ব্রাহ্মণ আয়া চাই। তা কি পাওয়া গেল? বিন্দুকেই মায়ের সব কাজ করতে হয়। এদিকে লতিকাকে প্রায় জোর করে এ-বাড়িতে নিয়ে এলে। ওর বাচ্চা হবে, ওকে তো ওর শ্বশুরবাড়িতেই রাখতে চেয়েছিল। তুমিই আনালে। ওর দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সবদিক সামলানো কি চাট্টিখানি কথা?

-আমার মেয়ের বাচ্চা হবে আমার বাড়িতে। এটাই নিয়ম বাসু। বরাবর আমাদের তাই হয়ে এসেছে। বউমাকেও পল্টু জন্মানোর সময় ও বাড়িতে পাঠিয়েছিলাম।

-বুঝলাম বাবা। কিন্তু পরিস্থিতিটাও তো দেখতে হবে? বাবা বোঝানোর চেষ্টা করেন।

-তোরা যা ভালো বুঝিস কর। তবে ও যেন রান্নাঘরে না-ঢোকে। আর খাবারদাবারের ছোঁয়াছানি যেন না-হয় বলে দিলাম। তোর মায়ের কোনো কাজও যেন ওকে দিয়ে না-করানো হয়। আমার বিছানা বউমা না-পারলে আমিই করে নেবো। ওকে করতে হবে না। আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আর ক’দিন! দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়েন মোহিনীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঠাকুরদা নিজের দাপট দেখানোর চেষ্টা করেও যখন পারলেন না, তখন ব্রাহ্মণত্বের ঘেরাটোপে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার কাজ সেরে রাখলেন। এইসব নিয়ে আমাদের বিরক্তির সীমা ছিল না। সত্যি কথা বলতে কি বিরক্ত হওয়ারই ব্যাপার। আমার কোনো বন্ধু কোনোদিন এ বাড়িতে আসে না। অব্রাহ্মণদের তো কথাই নেই, নিজেই আসতে বারণ করেছি। ব্রাহ্মণ বন্ধুরাও আসে না। তোদের ঐ ঊনবিংশ শতাব্দীর বাড়িতে যাব? পাগল নাকি? ওদের সটান জবাব।

বাবার বন্ধু বলতে একমাত্র জ্যোতির্ময় কাকুকে আসতে দেখেছি কালেভদ্রে। আর কেউ আসেননি কখনো। আমার মামাবাড়ির লোকজনেরাও এড়িয়েই চলে এবাড়ি। আত্মীয়স্বজন বলতে বড় পিসি, ছোটো দাদু, মানে ঠাকুরদার ছোটো ভাই আর ন’মাসে ছ’মাসে দাদুর কোনো স্বজাতি বন্ধু। মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িটাকে একটা জেলখানাই মনে হয় আমাদের।

প্রতিদিন ভোরে ঠাকুরদার খড়মের শব্দে ঘুম ভেঙে যেত। গ্রুপ থিয়েটার করি। ফিরতে প্রায়ই রাত হয়। একটু বেলা পর্যন্ত ঘুমাব তার উপায় নেই। ভোর পাঁচটার আগে ঘুম থেকে উঠে কাঠের খড়মের খটাস খটাস শব্দ, কলঘরের বালতির শব্দ, একটু বাদেই বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের চিৎকৃত শব্দ সবমিলিয়ে জমজমাট সকাল। কার সাধ্য বেলা করে ঘুম থেকে উঠবে! তাও যদি ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকি, চেঁচামেচি করে তুলে দেবেন। প্রাতঃসূর্যের প্রথম আলোয় ঘুম থেকে উঠতে হয়। সহজ নিদান ঠাকুরদার। না-উঠলে মাকেই নানা কথা শুনতে হবে। কেননা সারাদিন বাড়িতে তো মা একাই থাকেন। বাবা আর আমি অফিসে যাই। বাবা রিটায়ারমেন্টের পর এক্সটেনশনে কাজ করে যাচ্ছেন। আর আমি সদ্য চাকরি পেয়েছি। অফিস থেকে বেরিয়ে শো বা রিহার্শালে যাই। সবমিলিয়ে ফিরতে রাত হয়।

ঠাম্মা বিছানায় শয্যাশায়ী। দিন পনেরো আগে ঠাম্মার সেরিব্রাল অ্যাটাক হয়। নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে যখন ছাড়া পেলেন, তখন বাঁদিকে পড়ে যাওয়া ঠাম্মার জন্য সর্বক্ষণের আয়া রাখার দরকার পড়ল। কিন্তু ঠাকুরদার কড়া জবাব, কোনো অব্রাহ্মণ আয়া রাখা যাবে না।

নার্সিংহোমে যখন ঠাম্মাকে ভর্তি করা হয়েছিল, তখনও ব্রাহ্মণ-অব্রাহ্মণের ফ্যাকড়া তুলেছিলেন। কিন্তু যে নার্সরা ঠাম্মার পরিচর্যা করেছেন তাঁরা সবাই ব্রাহ্মণ এইরকম একটা কথা আমার পিসেমশাই কীভাবে যেন ঠাকুরদাকে বিশ্বাস করিয়ে দিয়েছিলেন। সে রহস্য আমরা বুঝতে পারিনি। হয়তো ঠাকুরদার অগাধ বিশ্বাস ছিল তাঁর জামাই তাঁকে মিথ্যে বলতে পারে না !

কয়েকদিন পরেই ঠাম্মাকে ছেড়ে দিল নার্সিংহোম। বাবাও ঠাম্মাকে ছেড়ে দিক সেটা চাইছিলেন। আসলে এখন ফিজিওথেরাপি ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা নেই আপাতত। রতন চক্রবর্তী নামে আমাদের লতায়পাতায় এক আত্মীয়কে পাওয়া গেল। তিনিই ফিজিওথেরাপি করেন প্রতিদিন। যদিও তিনি এই কাজে খুব দক্ষ নন। এছাড়া শয্যাশায়ী রুগীর নানা কাজ থাকে। ঠাম্মা বিছানাতেই সব করে ফেলেন। সেসব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্যই বান্টির কথা ভাবা হয়েছিল প্রথমে। ঠাকুরদার জন্য তা হল না। মাকেই এখন সব করতে হয়।

ঠাম্মা সব বুঝতে পারেন বলেই আমার ধারণা। মার প্রতি অত্যন্ত দুর্বল ঠাম্মা এইসব কাজ খুব-একটা মেনে নিতে পারছিলেন না বুঝি। কিন্তু কিছু করার নেই। তিনি জানেন তাঁর স্বামীর গোঁড়ামী। ফলে কিছুই যে করার নেই কারও তাও অজানা নয়। চিরকাল স্বামী শ্বশুর ভাসুরের নানা নিয়ম নীতি আর দাপট সহ্য করে এসেছেন। কোনোদিন মুখ ফুটে কিছু বলার সাধ্য ছিল না। থমথমে মুখে সব মেনে নেওয়াটাই যেন নিয়তি ছিল ঠাম্মার। কিংবা স্বল্পশিক্ষিত গরিব ঘরের মেয়ে ছিলেন বলে প্রথম থেকেই হয়তো সব মেনে নিতে হয়েছে তাঁকে। সেই দাপটের ঘাতপ্রতিঘাতে বিপর্যস্ত শয্যাশায়ী ঠাম্মার শরীরের আরও অবনতি হতে থাকল ধীরে ধীরে। কথাও বন্ধ হয়ে গেল একসময়।

ঠাকুরদার কিন্তু কোনো ব্যাপারেই কোনো হেলদোল নেই। স্ত্রী শয্যাশায়ী হলেও তাঁর নিজস্ব জগৎ ঠিকই বজায় আছে। সেই ভোরে ওঠা, সকাল-সন্ধে আহ্নিক করা, নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া আর ঘুম, কোনোকিছুই নিয়মের বাইরে যায়নি। সম্ভবত ঠাকুরদা বাদে, আমরা সবাই এখন ঠাম্মার চলে যাওয়ার দিন গুনছি। কিন্তু আশ্চর্য ঘটনা হল অসুস্থ ঠাম্মার বদলে ডাকাবুকো চলেফিরে বেড়ানো ঠাকুরদাই আগে চলে গেলেন।

সন্ধ্যায় ছাদে বসে ঠাকুরদার নানা কথা ও আচরণ ভাবছি। মনে পড়ে গেল পাশের বাড়ির মায়া ঠাকুমা গেলেন আমার ঠাম্মার কাছে। তিনিএকটা জাঁতি নিয়ে শয্যাশায়ী ঠাম্মার হাতের শাঁখা ভেঙে দিলেন। হিন্দুবাড়ির যা নিয়ম আর কি! এরপর ভিজে গামছা দিয়ে ঠাকুমার কপালের সিঁদুর মুছে দেওয়ার চেষ্টা করলেন, কাল রাতেই যে সিঁদুর আমার মা ঠাম্মার কপালে এঁকে দিয়েছিলেন। আমরা দেখলাম ঠাম্মার চোখ থেকে দু’ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। আর কিছু নয়। দাহকাজের পর বাবা যখন কোরা কাপড় পরে ঠাম্মার সামনে এসে দাঁড়ালেন, তখনও দু’ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। আর তারপরেই যেন তাঁর চোখেমুখে একটা প্রশান্তি দেখতে পেলাম। সত্যিই কি তাই? নাকি আমার মনের ভুল?

মার ঘরে গিয়ে চুপিচুপি বললাম কথাটা। লাল পাড়ের শাড়ি পরা মা বললেন, কাউকে এসব বলিস না বাবু। আসলেও কিন্তু তাই। মা যেন মুক্তি পেলেন। জানি না ঈশ্বর এই মুক্তির স্বাদ পেতে দেবেন কিনা। মা কি আর ভালো হয়ে উঠবেন ! দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন মা।

রাতে ঠাকুরদার স্বপ্ন দেখলাম। খড়মের খটাখট শব্দ তুলে আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি। তারপর পৈতেটা তর্জনী আর বুড়ো আঙুলের মাঝে রেখে ডান হাত টানটান করে বললেন, তোর ঠাম্মাকে মুক্তি দিলাম কেষ্টা।

-মুক্তি দিলে? তা অবশ্য ঠিক। ঠাম্মা তোমার ক্রীতদাসী ছিল। তাছাড়া জাতপাত নিয়েও কম কিছু করলে না সারাজীবন! খুব অন্যায় ছিল এসব … আমার মুখ দিয়ে এইসব কথা কে বলিয়ে নিচ্ছে জানি না। কোনোদিন যাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলিনি, তাঁকে এসব বলছি কী করে ভেবেই অবাক হয়ে যাচ্ছি।

-চিরকাল তো দাপটের সঙ্গেই চলেছি। আমার সব আচরণ তোর ঠাম্মা মেনে নিয়েছে মুখ বুজে। আজ থেকে সবকিছু থেকেই মুক্তি দিলাম ওকে।

-তুমি কিন্তু কায়দা করে এড়িয়ে গেলে। এইসব জাতপাতের ব্যাপার নিয়ে তোমার বাড়াবাড়িটা কি অন্যায় নয়?
-না, এড়িয়ে যাইনি। আসলে এই নিয়ে আমি কী বলব? আগে থেকে যেসব নিয়ম হয়ে এসছে আমি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। এইরকমই আমাদের শেখানো হয়েছে ছোটোবেলা থেকে। সেই ঘেরাটোপে আটকে গেছি।

– আটকে গেছো নাকি আটকে থাকতে চেয়েছ?

– জানি না। হয়তো দুটোই ঠিক। তবে মাঝে মাঝে মনে হত, এসব ঠিক নয়। এতে মানুষকে অপমান করা হয়। কিন্তু একটু পরেই আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতাম। কে যেন আমাকে দিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করাত।

– ঠাম্মাকে কোনো ট্রেন্ড নার্স দিয়ে পরিচর্যা করানো দরকার ছিল।

– জানি। মনোর যা অবস্থা তাতে তোর মায়ের পক্ষে সম্ভব না যত্ন নেওয়া।

– আচ্ছা, ঠাম্মাকেও যে তুমি দাবিয়ে রাখতে এতে তোমার খারাপ লাগত না?

– না। বেশিরভাগ সময়ই লাগত না। শৈশব থেকে এই পৌরুষত্বের দাবড়ানি দেখেছি। যখন খারাপ লাগত, তখন মনোকে নরম করে কাছে ডাকতাম। কিন্তু ও সরে সরে থাকত। ও বোধহয় আমাকে নিয়ে সুখী ছিল না।

– না থাকারই কথা। তোমার দাপটের কাছে ঠাম্মা জুবুথুবু হয়ে থাকত। এভাবে আর যাই হোক, ভালোবাসা হয় না।

কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর বললেন, হয়তো তুই-ই ঠিক। তোরা নতুন সময়ের মানুষ। নতুন করে সব গুছিয়ে নে। কী যেন ভাবছেন এমনভাবে মাথা নীচু করে থেকে ধীরে, মৃদু গলায় বললেন, অনেকদিন আগে টিভিতে একবার রিলে রেস দেখছিলাম। তখন আমাদের সাদা-কালো টিভি। তাতে দেখলাম একজন তার হাতের ব্যাটন আর একজনের হাতে তুলে দিচ্ছে। সে তখন দৌড়চ্ছে। তুইও ভাঙ। কিছুটা ভেঙে ফেল। তারপর তোর হাতের ব্যাটন তোর ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দিস। এভাবেই সব ভেঙে যাক ধীরে ধীরে। আমরা বাপ-কাকার হাতের ব্যাটন নিয়ে একজায়গাতেই ঘুরপাক খেয়েছি। কিন্তু তোরা এগো।

– জানো, তোমার ভয়ে বাবাও ভাঙা-ভাঙির দিকে যেতে পারেনি।

– না। সবটা ঠিক না। তোর বাবা বাইরে মুরগি শুয়োর কোনো মাংসই বাদ দেয়নি। সন্ধ্যা আহ্নিক ছেড়ে দিয়েছে অনেক আগে। আরও অনেক কিছুই মানে না। আমি জানি। কিন্তু কোনোদিন ওকে টের পেতে দিইনি।
আমি জানি বাবা ঘরের বাইরে এসব মানতেন না। হাসতে হাসতে বলতেন, বিদেশে নিয়ম নাস্তি। বাড়ির বাইরের পুরোটাই আমার বিদেশ। আমিও অবশ্য ঘরের বাইরে কোনো কিছুই কোনোদিন মানিনি।

– আচ্ছা, এই যে বললে মুক্তি দিলাম, এটা কি ঠিক কথা? এখনো নিজের পৌরুষত্বের দাবি ছাড়বে না তুমি?

কঠিন চোখে তাকালেন তিনি। তারপর খানিক থমকে থেকে হেসে উঠলেন। হা হা হা হা… সে হাসি নিয়েই তিনি খটাখট শব্দ তুলে চলে গেলেন। আমি চিত্কা র করে উঠলাম, একটু দাঁড়াও। তোমার কাছে আরও জিজ্ঞাসা আছে। চলে যেও না। ঠাকুরদা আর ফিরলেন না।
আমি ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠলাম। মাও চটপট উঠে আমার দিকে এগিয়ে এলেন।

– কী রে বাবু, স্বপ্ন দেখছিলি ঠাকুরদার?

– হ্যাঁ মা, দেখলাম ঠাকুরদা এসেছেন। আমার সঙ্গে অনেক কথা হল …

– থাক বাবু, কাল শুনব। এখন ঘুমো। অনেক ধকল গেছে আজ।

আমি চোখ বুজলাম। মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। চোখ বন্ধ করেই দেখতে পেলাম ঠাকুরদা হেঁটে চলেছেন। বাড়ির চৌহদ্দি ছাড়িয়ে ঐ তো চলে যাচ্ছেন … আর দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। আমার মনে হল ঠাকুরদা চিরকালের জন্যই হয়তো হারিয়ে গেলেন।

আরও পড়ুন: নিশো আল মামুনের রবিবারের ছোটগল্প

Check Also

অমিতাভ দাসের ছোটগল্প

রবিবারের ছোটগল্প শূন্য থেকে শুরু লিখেছেন অমিতাভ দাস

ছোটগল্প শূন্য থেকে শুরু অমিতাভ দাস Illustration: Preety Deb একটা লোক সেই থেকে চিৎকার করেই …