Breaking News
Home / রবিবারের আড্ডা / থিয়েটার রিভিউ মাছি’রা উড়ছে

থিয়েটার রিভিউ মাছি’রা উড়ছে

টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকতেই চমক। সামনে দাঁড়িয়ে দুই সশস্ত্র প্রহরী, গ্রিক সেনা-ভূষণে সজ্জিত। প্রথমেই ভাবলাম নির্ঘাত কারুশিল্পের নমুনাই হবে হয়তো বা। নিশ্চল, নির্বিকার সেই মূর্তির সমস্ত শরীরে নেই একটুও সচলতার ছোঁয়া। নাহ, ভুল ভাঙল কাছে যেতেই। শুনি, দুজনেই পাখি পড়ার মতো একটানা বলে চলেছে, ‘মোবাইল বন্ধ করে দেবেন, মোবাইলটা বন্ধ রাখবেন’, বেশ ভারী গলায়, আদেশের সুরেই।
বুঝলাম, এ বড় কঠিন ঠাঁই। এখানেই শেষ নয়, দু’দিকের সিঁড়িতে ছড়ানো কয়েকটা মুখোস-আঁটা অবয়ব, গায়ে তাদের সকলের একইরকম বেশ-সজ্জা, বিভিন্ন ভঙ্গিমায় তারা বসে আছে নিশ্চুপভাবে। কিছু একটার অপেক্ষায় আছে তারা। কীসের অপেক্ষা?
নাটক শুরুর আগেই এইসব পরিপার্শ্ব আমাদের খুব দ্রুত বুঝিয়ে দিল আমরা এসে পড়েছি ভয়মাখা এক গ্রিক-স্থানে, একটু পরেই শুরু হবে নাটক— ‘মাছি’।
ষ্টেজের যবনিকা তোলাই আছে, আমরা বসে শুনতে লাগলাম একটানা বেজে চলা এক সুর, আর দেখতে পেলাম, ষ্টেজের ওপর রাখা আছে/ অনেকটা জায়গা জুড়ে সারিবদ্ধ কাষ্ঠনির্মিত সোপান, ধাপে ধাপে সেগুলি উঠে গেছে আট দশ ধাপ অব্দি। এদিকে সেদিকে ঝুলছে সারি সারি রঙিন পর্দা, লালচে আর নীল মায়াবী আলোয় সেগুলি পর্যন্ত যেন কাঁপতে ভুলে গেছে, চাপা দমবন্ধ এক পরিস্থিতিতে তারাও যথাযোগ্য সঙ্গত দিচ্ছে। সময় হতেই নিজে নিজে যেন শুরু হয়ে গেল ‘মাছি’র ওড়াউড়ি।
হ্যাঁ, এই নতুন নাটকটির নাম ‘মাছি’। জাঁ পল সার্ত্রে লিখিত বেশ পুরনো এই নাটকটিকে সদ্য বাংলা মঞ্চেএনেছেন নাট্যকার অর্পিতা ঘোষ, তাঁর ‘পঞ্চম বৈদিক’ গোষ্ঠী নাটকটি মঞ্চস্থ করতে শুরু করেছে মিনার্ভা থিয়েটারে। আমরা এই নাটকটি দেখার প্রতিক্রিয়া, তার প্রেক্ষাপট, তার কাহিনি-বিস্তার, এসব ছাড়াও প্রাসঙ্গিক আরও কিছু কথা— এইসবই এবার আলোচনায় আনব।
নাটকের মূল গল্পটা যদিও বহু পুরনো, আর সার্ত্রে-ও লিখেছিলেন সেই ১৯৪৩ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন একটা সময়ে, ফ্রান্সে বসে। কাহিনীটি গ্রিস দেশের একটি মিথ বা উপকথা থেকে আধারিত। মূলত প্রতিশোধের, আর কিছুটা পাপবোধের অনুশোচনা— এই হল নাটকের মূল থিম। নাটকের গল্পটা, বা বলা ভালো সেই মিথটি পরিবেশন করার আগে আমাদের আজকের নাটকটিতে প্রথম দৃশ্যে কী দেখলাম, সেটা একটু বলে নিই।
আগেই বলেছি নির্ধারিত সময়ে, কোনোরকম ঘোষণা ছাড়াই আবছা আলোয় দেখা গেল, নীল সেনা-পোশাকে সজ্জিত এক যুবা দীপ্ত ভঙ্গিমায় ষ্টেজের ডানদিকে ওপরের দিকে একটি ছোট খোপের মধ্যে থেকে তাকিয়ে রয়েছেন নীচের মূল ষ্টেজের দিকে, যেখানে একদল ‘মাছি’রূপে সজ্জিত (এরা সবাই মুখে এঁটে নিয়েছে মুখোস, গায়ে একইরকম চকচকে একটা বিশেষরকম পোশাক, মাছিরূপী মানুষ আর কি) মানুষ নানারকম দেহ-বিভঙ্গে ষ্টেজময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর সেই কাঠের সোপানধারার একেবারে ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন এক সাদা পোশাকে সজ্জিত বৃদ্ধ (পরে দেখা যাবে এঁর মুখ সাদা দাড়ি গোঁফে আচ্ছন্ন), দুই হাত তাঁর শূন্যে উত্তোলিত। ‘মাছি’রা একসময় সেই সোপানশ্রেণিকে ঘোরাতে লাগল, বৃদ্ধের সম্মুখভাগ আমাদের সামনে এল। ইনিই মাছিদের নিয়ন্ত্রণ করছেন, বোঝা গেল। ইনি দেবতাদের রাজা জিউস, পরে প্রায় প্রতিটি দৃশ্যে ইনি আসবেন ষ্টেজে, কোনো এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলের সংলাপ শুনবেন, কখনও কখনও কোনো মন্তব্য ছাড়াই। দেবতারা যে সর্বত্রগামী, সেটা বোঝাতেই কি এঁর এই পুনঃ পুনঃ আগমন?
যুবকটির নাম ফিলিবাস, সে সাধারণ এক পর্যটক হিসেবে ভ্রমণরত, এক বয়স্ক সঙ্গীকে এসেছে গ্রিসের এই আর্গস শহরে। জানা যায়, এই শহরের মানুষ সুখে নেই। সারাক্ষণ তাদের মধ্যে এক অপরাধবোধ কাজ করে চলেছে, তাঁরা অনুতাপের আগুনে যেন ঝলসে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফিলিবাস জানায়, তার জন্ম আসলে এই শহরেই। আজ থেকে আঠেরো বছর আগে। আর এই শহরের মানুষ প্রতি বছর এক শোকের উৎসবে যোগ দেয়, যার নাম মৃতের উৎসব। সেদিন প্রত্যেকের মৃত আত্মীয়েরা মৃতের জগত থেকে চলে আসে, তাদের কাছে নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা চায় জীবিতেরা, তাদের ধারণা, এতে তাদের পাপস্খালন ঘটে।
এই শহরের আরও একটি ট্রাজেডি আছে। পনের বছর আগে এখানকার রাজা খুন হয়েছিলেন রানি ক্লাইমেনস্ত্রা আর তাঁর সঙ্গী অ্যাগিয়েস্থাসের হাতে। সেই অ্যাগিয়েস্থাস এখন রাজা। আর রানি এখন তাঁর স্ত্রী। রানির এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলেটি, যার নাম অরেস্টাস, সে ছোট থেকেই নিরুদ্দেশ। এই পর্যায়ে এসে আমাদের মনে উঁকি না দিয়ে পারে না এই ভাবনাটি, ওই ফিলিবাসই আসলে অরেস্টাস নয় তো?
আর্গস-বাসী সকলেই রাজপরিবারের সেই পুরনো অপরাধের কথা জানত, এবং এখনও জানে। কিন্তু তারা এই অন্যায়ের কোনো প্রতিকারের চেষ্টা করে না, করতে চায়ও না। তাদের অনুশোচনায় দগ্ধ করা, অনুতাপে জর্জরিত করে রাখাই যে দেবতাদের উদ্দেশ্য। আর সেই কাজে সাহায্য করার জন্য দেবতা প্রেরিত মাছির দল শহরটাকে কব্জায় এনে রেখে দিয়েছে।
এরপর কাহিনিতে আগমন সেই রানির সুন্দরী মেয়েটির, যার নাম ইলেক্ট্রা। সে রানির মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও রাজপ্রাসাদে থাকে দাসীর মতো, কারণ সে রানি-অনুগামী নয়, রাজা-রানিকে সে ঘৃণা করে। তার একটাই আশা, হারিয়ে যাওয়া ভাই একদিন ফিরে আসবে, এসে রাজা-রানিকে হত্যা করে শহরের হাল ফেরাবে। শহরবাসীর মন আবার মুক্ত হবে সবরকম আক্ষেপ, অনুশোচনার বন্ধন থেকে। তারা প্রাণ খুলে হাসবে, মুক্ত বাতাসে জীবনের স্বাদ পাবে।
ইলেক্ট্রার সঙ্গে ফিলিবাসের পরিচয় ঘটে। সে শুরুতে নিজের আসল পরিচয় দেয় না, জানায় যে সে একজন ভ্রাম্যমাণ পর্যটক, এসে পড়েছে এই শহরে, দু’একদিন পরেই চলে যাবে। ইলেক্ট্রাও তাকে নিজের কষ্টের কথা সমস্তই জানায়। তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলাকালীনই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে বয়স্কা, কিন্তু রূপে, বেশভূষায় লাস্যময়ী রানি ক্লাইমেনস্ত্রা-র। তাঁর দাপট প্রচণ্ড। তিনি ইলেক্ট্রাকে আদেশ করেন, মৃত মানুষদের উৎসবে যাওয়ার জন্য সে যেন কালো পোশাক পরে তৈরি হয়। মেয়ে তো রাজি হয় না। রানি এরপরে ফিলিবাসকে দেখেন এবং তার সঙ্গে কথা বলে বোঝেন, এই স্বাধীনচেতা যুবকটি এখানে থাকলে নগরবাসীর মধ্যে পরিবর্তন এসে যেতে পারে, তাদের মধ্যে প্রতিবাদের ভাষা জেগে উঠতে পারে। তাই তিনি ফিলিবাসকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু ইলেক্ট্রা এই প্রস্তাবে রাজি হতে বারণ করে ফিলিবাসকে। ফিলিবাস থেকে যেতেই মনস্থ করে।
এরপর আরও ঘটনা এগোয়, নগরবাসী কীভাবে মৃত মানুষের উৎসবে অংশ নেয়, সেইসব দেখানো হয় আলোছায়ার নানারকম কারিকুরির মাধ্যমে। একটা পর্যায়ে মঞ্চের পিছনের পর্দাটা নেমে আসে, তার পিছনে দেখা যায় হাজার আলোর ঝলক। ওখানেই থাকে মৃত মানুষদের আত্মা। তারা এসে নাকি জীবিতদের নানাভাবে অত্যাচার করে, এবং জীবিতেরা মন খুলে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে, অনুতাপে দগ্ধ হয়।
কিন্তু ইলেক্ট্রা এই ব্যাপারটা চায় না, সে চায় সকলে পুরনো কথা ভুলে যাক, বাঁচুক প্রাণভরে। কিন্তু সে একা তো পারে না এই অচলায়তন ভাঙতে। বরং রাজার নির্দেশ পায় সে, শহর ছেড়ে নির্বাসনে চলে যাওয়ার। এরপর কিন্তু ফিলিবাসের সঙ্গে কথা বলার সময় সে জানায়, সে আসলে থাকতে চায় এখানেই, তার দৃঢ় বিশ্বাস, তার দাদা একদিন ফিরে আসবে। এই শুনে ফিলিবাস তার আসল পরিচয় দেয়। সে যে আসলে অরেস্টাস, এটা এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পেল।
এরপর নানা ঘাত প্রতিঘাতের পর দুজনে রাজপ্রাসাদে আসে, এবং রাতের অন্ধকারে অরেস্টাস তার মা এবং অ্যাগিয়েস্থাসকে খুন করে। তারপর দুজনে অ্যাপোলোর মন্দিরে আশ্র্য নেয়। কিন্তু ততক্ষণে মাছিরা তাদের আক্রমণ করতে শুরু করেছে।
পরদিন সকালে ইলেক্ট্রা নিজের ভুল বুঝতে পারে। সে চায় নিজেকে মাতৃহত্যার ভাগীদার হওয়া থেকে মুক্ত রাখতে। কিন্তু অরেস্টাস কোনোমতে এই কাজের জন্য ভুল স্বীকার করতে চায় না। ফলে, প্রথামতো, অপরাধ স্বীকারের শাস্তি হিসেবে ইলেক্ট্রাকে মাছিরা আক্রমণ করে তুলে নিয়ে চলে যায়। জিউস আসেন, অরেস্টাসকে বলেন অনুতাপ করতে। সে এখন একজন খুনি। সে যদি নিজের দোষ স্বীকার করে, তবে সে সব ফিরে পাবে, রাজ্য, রাজ সিংহাসন সব। অরেস্টাস রাজি হয় না।
জিউস আরও বলেন, অরেস্টাস দেবতাদের নিয়ম ভেঙেছে। সে অপরাধ করেও অনুতপ্ত নয়। অরেস্টাস জানায়, সে শুধু নিজের মনের কথাই শুনে চলে, অন্য কারও কথায় সে তার পথ পালটাবে না। এতে যদি তাকে একা হয়ে যেতে হয়, তাও রাজি সে।
শেষ দৃশ্যে অরেস্টাস অ্যাপোলো মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে আসে, সমবেত নগরবাসীকে উদ্দেশ্য করে জানায় যে সে— অরেস্টাস— এখন তাদের রাজা। সে যা যা করেছে সব স্বীকার করে, সে এজন্য কোনোভাবেই অনুতপ্ত নয়, সে ঠিক কাজই করেছে। সে যে তাদের মুক্ত করতে এসেছে তা-ও জানায়। সে চায় সকলের সমস্ত পাপ নিজের কাঁধে তুলে নিতে, এবং সকলে যেন এরপর থেকে অনুতাপ মুছে নতুন জীবন শুরু করে। এরপর সে সকলকে হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার গল্পটা বলতে শুরু করে। গল্পের শেষে সেই বাঁশিওয়ালার মতোই সে শহর ত্যাগ করে, এবং সমস্ত মাছিও তাকে অনুসরণ করে চলে যায় চিরকালের জন্য। আর মঞ্চের অরেস্টাস, আমাদের মধ্যে দিয়ে চলে যান দর্শকদের পিছন দিকে, দু’দিক থেকে দুই সারি মাছির দল অনুসরণ করে তাকে।
২/
এবার বলি অভিনয়ে কথা। মূল চরিত্রে, অর্থাৎ অরেস্টাসের ভুমিকায় এখনকার বাংলা নাটকের ব্যস্ততম তরুণ মুখের অন্যতম একজন— গম্ভীরা ভট্টাচার্য। এই অভিনেতা ভিন্নধর্মী প্রচুর চরিত্রে অভিনয় করে এর আগে আমাদের বারবার চমকে দিয়েছেন। ‘যুগনায়ক’-এ তরুণ বিবেকানন্দের ভূমিকায়, ‘মা এক নির্ভীক সৈনিক’, ‘তুঘলক’, ‘নাটক ফাটক’, ‘ফ্যাতাড়ু’ ইত্যাদি বহুনাটকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সব চরিত্রে সাবলীল রূপদান করেছেন। তাঁর কণ্ঠস্বরের স্পষ্টতা এ ব্যাপারে তাঁকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে।
অ্যাগিয়েস্থাস-এর ভূমিকায় শ্যামাশিস পাহাড়ী খুব ভালো, তাঁর বেশভূষা এবং অভিনয়— দুইই উপযুক্ত, স্বাভাবিক। মুখ্য দুই নারী চরিত্র ইলেক্ট্রা আর ক্লাইমেনস্ত্রার ভূমিকায় আছেন মোনালিসা চট্টোপাধ্যায় ও তমালী চৌধুরী, আর দেবরাজ জিউস-এর ভূমিকায় শ্যামল চক্রবর্তী। তবে, ঐতিহাসিক নাটকের নিয়ম মেনেই প্রত্যেকেরঅভিনয়ে কিছু অতি-নাটকীয়তা রয়েছে, আর সংলাপ কখনও কখনও একটু বেশিই বলে মনে হচ্ছিল। দর্শকদের কাছে কখনও কখনও একঘেয়ে অনুভূত হলে তাতে দোষ দেখা চলে না।
৩/
১৯৪৩ সালে সার্ত্রে লিখেছিলেন তিন অঙ্কের এই নাটক। এটাই তাঁর প্রথম নাটক, নাটকের মধ্যে দিয়ে পৌঁছানো যাবে আরও বেশি মানুষের কাছে নিজের বক্তব্য নিয়ে— যে মানুষেরা হয়তো এমনিতে তাঁর বই পড়েন না, এই ভেবেই তিনি উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন নাটকটি লিখতে। তখন আগেই বলেছি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। জার্মানিতে সেন্সরশিপের জমানা। নাটকের শুরুতে যে দমবন্ধ করা আর্গস শহরের চিত্র দেখানো হয়, তা যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই নাৎসি জার্মানির বীভৎসতার কথা। সেই সময়, ফ্রান্সে নাৎসি সরকারের সাশন প্রায় চেপে বসেছে, সেন্সরের দৌলতে সরাসরি সরকারের সমালোচনা একেবারেই সম্ভব ছিল না। এ জন্য, সার্ত্রে বেছে নিলেন মিথের আড়াল, ফ্যাসিবাদ বিরোধী বক্তব্য সরকারের দৃষ্টি এড়িয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ এই নাটক থেকে যা বক্তব্য বোঝার ঠিকই বুঝে নিয়েছিলেন। এই নাটক ফ্রান্সের সাধারণ মানুষের প্রতি সরাসরি ডাক— প্রকৃত কর্ম-স্বাধীনতাকে চিনতে পারার, এবং যে তাদের দমিয়ে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।
গ্রিক বা রোমান মিথের ওপর নির্ভর করে ফ্রান্সে তার অনেক আগে থেকেই চালু রয়েছে নাটক লেখার প্রচলনটা। বস্তুত উনিশ শতকের শেষের দিকেই সে দেশে এই ধরনের মিথ-নির্ভর কাহিনিকে সমকালীন আয়নায় প্রতিফলিত করে নাট্যরূপ দেওয়ার একটা ব্যাপার আমরা দেখতেই পাই। আর এই কাহিনিটি নিয়ে তো বেশ কয়েকটি নাটক তৈরি হয়েই ছিল। আরও যেটা খেয়াল করার, অতি প্রাচীন গ্রিসেও কিন্তু অরেস্ট, বা ইলেক্ট্রাকে নিয়ে নাটক লেখা হয়েছিল। সফোক্লিস, ইউরিপিদিস— এই রকম সব নাটককাররা লিখেছিলেন সেইসব নাটক।
সার্ত্রে সাহেব যে জন্য বিখ্যাত , সেই ‘Existentialism’ বা অস্তিত্ববাদ তত্ত্ব এই নাটকেও দেখা গেছে। এমনকি এই নাটকটি লেখার বছরেই প্রকাশ পেয়েছিল তাঁর এই তত্ত্ব সম্বন্ধীয় বিখ্যাত বই— ‘Being and Nothingness’।
সুতরাং, বাংলার দর্শকদের জন্য সার্ত্রে এসেছেন মঞ্চে ফিরে, আশা করি দর্শকরা তাঁকে ফিরিয়ে দেবেন না।

অর্পণ পাল


আরও পড়ুন: রবিবারের সান্ধ্য কবিতার আসর-১০

Check Also

রবিবারের ছোটগল্প

রবিবারের ছোটগল্প পাখি হওয়ার সাধ লিখেছেন চন্দ্রশিলা ছন্দা

ছোটগল্প পাখি হওয়ার সাধ চন্দ্রশিলা ছন্দা Illustration: Preety Deb জানালার গ্রীলে মুখ লাগিয়ে সবুজের উদাস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *