Breaking News
Home / রবিবারের আড্ডা / এলো কৃষ্ণচূড়ায় রঙ ছড়িয়ে

এলো কৃষ্ণচূড়ায় রঙ ছড়িয়ে

রুনা তাসমিনা

বৈশাখি
ধর্ম যার যার, উৎসব সবার-কথাটির সাথে কোনো দ্বিমত দেখা যায়না বাঙালিদের বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয়ার ক্ষেত্রে। আমার চোখে দেখা এমন একটি পরিবারও এখন দেখিনা, যেখানে বর্ষবরণের আনন্দ ঢেউ লাগেনা। কৃষ্ণচূড়া, পলাশের কাছ থেকে আনন্দের রঙ লাল চেয়ে নিয়ে, শান্তির প্রতিক শুভ্রতাকে মেঘের কাছে চেয়ে নিয়েই মনে হয় বৈশাখে লাল সাদার প্রাধান্য বেশি থাকে এই দিন। মনে যখন আনন্দের ঢেউ লাগে, কি এসে যায় রঙে! এভাবেই ভাবে অনেকে আবার। তাই নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বেছে নেয় নানা রঙ। খুব মন ভালো হয়ে যায়, বাইরে বেরিয়ে যখন দেখি আজ কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই খুশি ,সবার চোখে মুখেই ইদ, দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পুর্ণিমা, বড়দিন উদযাপনের মতো আনন্দ। এই আনন্দ সবার। এদিন একদলের আনন্দে আরেকদল নির্বিকার থাকছে না। সত্যিই অনেক ভালো লাগে ধর্ম,বর্ণ ভুলে গিয়ে মানুষের এই একাত্বতা, সম্প্রীতির এই বন্ধন দেখে। বিভিন্ন জায়গায় বসে মেলা। তবে মেলার সবচেয়ে বড় আসর আগে বসতো চট্টগ্রামে ডিসি হিলে। কুটির শিল্পজাত নানারকম সামগ্রীর সমহার সাজিয়ে বসে মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষেরা। উপরে ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হয় খাবারের সাময়িক দোকান। পান্তা ভাত আর ইলিশ মাছ খাদ্য তালিকায় বিশেষভাবে প্রাধান্য পায় এইদিনে। বেশিরভাগই দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রী এদের মধ্যে। উপছেপড়া মানুষের ভিড়ে হিমসিম খেতে হয় এসব অস্থায়ী, অনভ্যস্ত দোকানদারদের। কেউ আবার হাতে রঙের কৌটো আর তুলি দিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা লোকজনের হাতে, মুখে এঁকে দেয় সুন্দর করে আলপনা। চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত ‘জব্বারের বলিখেলা’ বৈশাখী মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তবে এখন বৈশাখের আগমনকে স্বাগত জানানো শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার গ্রামেও। বৈশাখকে উপলক্ষ করে গ্রামের ঘরে ঘরে তৈরী হয় নানা রকম নকশি পিঠা। স্কুল কিংবা খেলার মাঠে বসে মেলা। ছোট বড় সকলেই ঘুরতে যায় সে মেলায়। কিনে নেয় রেশমি চুড়ি, মালা, নুপুরসহ আরো কত কি! ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা নাগরদোলায় চড়ে পায় সে কি আনন্দ! মেলা থেকে ফেরার সময় সবার হাতে থাকে পুতুল, ডুগডুগি।
বৈশাখি
ঋতুরাজ বসন্তের বিদায়ে মন যখন ভারী, পরদিনই আনন্দের ঢালি নিয়ে, পলাশ, শিমুলে রঙের আগুন লাগিয়ে আসে বৈশাখ। বাংলা ভাসে নতুন বছর বরণের আনন্দে। যা এখন আর সীমাবদ্ধ নেই বাংলায়। বৈশাখী উৎসবের দোলা বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও। বাংলার ঐতিহ্য পৃথিবীর উন্নত দেশগলোতে সমাদৃত হচ্ছে, যাথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে দেখলেই মন ভরে যায় আনন্দে, গর্বে। সবচেয়ে বেশি খুশী লাগে যখন দেখি পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই মানুষগুলো দেশ থেকে অনেকদূরে থেকেও, দেশের মানুষের সাথে এক হয়ে মিশে যাওয়ার ইচ্ছায় নিজেদের সাজায় দেশীয় সাজে। ঘরে রান্না হয় বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবার। কেউ কেউ বানায় নানা রকমের পিঠা। আবার অনেক দেশেও আমাদের দেশের মতো হয় বৈশাখী মেলা।
এতো আনন্দ, ভালোবাসা দিয়ে যে বছরটিকে আমরা বরণ করে নিই, সে বছরটিই যাও্য়ার সময় আমাদের জন্যে রেখে যায় আনন্দ, বেদনার অনেক স্মৃতি। তবুও দিনের শেষে রাতের মতো বছর ঘুরে বছর আবার আসবেই। দুঃখ বেদনা কারোর-ই কাম্য নয়। তবুও প্রকৃতির নিয়মের বাইরে আমরা যেতে পারিনা। আবার আমাদের একেবারে যে কিছু করার থাকেনা তা-ও নয়। আমরা কামনা করতে পারি, প্রার্থনা করতে পারি সবার মঙ্গলের জন্য। বাংলা নতুন বছর ১৪২৫ সবার জীবনে নিয়ে আসুক সুখ, সমৃদ্ধি। কৃষ্ণচূড়া, পলাশ থেকে কিছু রঙ নিয়ে সবাইকে জানাই বৈশাখের রঙিন শুভেচ্ছা।
আরও পড়ুন: এসো হে বৈশাখ…

Check Also

রাজস্থানের ভৌতিক গ্রাম

রাজস্থানের রহস্যময় কিরারু গ্রাম

দেবশ্রী চক্রবর্তী: ভারতবর্ষের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একখন্ড মরুপ্রান্তরের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে রহস্য এবং রোমাঞ্চ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *