Breaking News
Home / খেলার খবর / সন শব্দটি আইসল্যান্ড ফুটবল প্লেয়ারদের নামের শেষে থাকে কেনো?

সন শব্দটি আইসল্যান্ড ফুটবল প্লেয়ারদের নামের শেষে থাকে কেনো?

সবার খবর, ওয়েব ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবল আসলেই আমরা বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতির সাথে পরিচিত হই। কতো বৈচিত্রের যে মেলবন্ধন ঘটে এই বিশ্বকাপকে কে কেন্দ্র করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নিশ্চয় আপনারা আইসল্যান্ড এবং নাইজেরিয়ার মধ্যেকার ম্যাচটি দেখেছেন আর দেখে থাকলে ধারাভাষ্যকারকে সন সন সন করতে শুনেছেন। আসলে আইসল্যান্ডের যে এগারো জন মাঠে নেমেছিল তাদের প্রত্যেকের নাম সন দিয়ে শেষ হচ্ছে। যা ধারাভাষ্যকারের কাজকে অনেকটাই কঠিন করে দিচ্ছে।
আইসল্যান্ড ফুটবল দল
আইসল্যান্ডে মাত্র সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ বাস করে। যাদের কাছে বিশ্বকাপ খেলাটা একটা স্বপ্নের মতো ছিল। কারণ সেখানকার আবহাওয়া এতোই প্রতিকূল যা আইসল্যান্ড বাসির দৈনন্দিন জীবন যাত্রাকে কষ্টসাধ্য করে তোলে। তাই ফুটবলার হতে চাইলে মাঠের সবুজ ঘাসে নামার সুযোগ খুব একটা হয় না তাদের। তাদেরকে বেশিরভাগ সময় প্র্যাক্টিস করতে হয় ইন্ডোরে। আর এই আইসল্যান্ড মেসির আর্জন্টিনাকে রক্ষাণত্মক ফুটবল খেলে রুখে দেয়। ফলে মেসিদের এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়। কিন্তু নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আইসল্যান্ড ২-০ গোলে হেরে যায়।
আইসল্যান্ড বিশ্বকাপে
আইসল্যান্ড হারুক বা জিতুক একটা বিষয়ে সবার নজর কেড়েছে তা হলো তাদের নাম। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে তদের খেলোয়াড়দের নাম দেখুন বিয়ারনাসন, হলডরসন,ফিনবোগাসন , আরনাসন, সিগুর্ডসন, মাগনুসন, গিসলাসন, গুনারসন, সিগুর্ডসন (আরেকজন),স্যাভারসন , ফিনবোগাসন, গিসলাসন ও বোডভারসন।
নামগুলো দেখে মনে একটাই প্রশ্ন জাগে তাহলে আইসল্যান্ডের সবার নামের পদবি কি এক? আসুন এবার একটু আইসল্যান্ডের ইতিহাস জেনে নিই। ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো নাম রাখার ক্ষেত্রে একই রীতি মানা হয় না এখানে। ধরুন আপনার নাম ‘রিচার্ড’ আপনার বাবার নাম ‘মাইক জনসন’ তাহলে আপনার নাম হবে ‘রিচার্ড মাইকসন’। আবার হেনরি নামের কোনো মেয়ে থাকলে তার নাম হবে ‘হেনরি মাইকডটির’। কারণ ‘সন’ যেমন ছেলেদের পদবি ঠিক একই ভাবে ডটির হচ্ছে মেয়েদের পদবি। আবার বাবার প্রথম নামও যোগ করতে হবে পদবির সাথে। নামের ব্যতিক্রম আছে অনেক কিন্তু কাকতলীয় ভাবে বেশির ভাগই সন পদবির নাম। একইভাবে আগে নাম রাখার রীতি ছিল সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্কে কিন্তু এখন চালু আছে কেবল আইসল্যান্ডে ও সুইডেনের কিছু অংশে।
আইসল্যান্ড
আসলে এমন নাম হওয়ার পিছনে আইসল্যান্ড সরকারের কড়াকড়ি নিয়মই দায়ি। আইসল্যান্ডের সরকার ১৯৯১ সালে একটি নাম-নির্ধারক কমিটি গড়ে দেয়। বাচ্চার নাম রাখার ক্ষেত্রে প্রতিটি অক্ষর আইসল্যান্ডিক হওয়া এবং নামের পদবি বাবার নামের সাথে মিল থাকাও বাধ্যতামূল। না হলে নামের অনুমোদন নাম-নির্ধারক কমিটির বাতিল করে দেবে। আবার ছেলেদের নাম মেয়েদের এবং মেয়েদের নাম ছেলেদের রাখলেও সরকার সেই নাম অনুমদন করে না। নামের প্রতিটি অক্ষর এবং শব্দও আইসল্যান্ডিক হওয়া বাধ্যতামূলক।
আরও পড়ুন: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাতিব্যাস্ত মায়ানমার: একই সাথে ভূমিধস এবং বন্যা

Check Also

নাইট রাইডার্স

তৃতীয় বারের মতো খেতাব জিতে নিল নাইট রাইডার্স। শাহরুখের মুখে চওড়া হাসি

খেলার খবর: ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল খেলা ছিল ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে। ওই ফাইনাল ম্যাচটিতে ট্রিনবাগো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *