Breaking News
Home / খেলার খবর / নেইমারের জীবনী : ব্রাজিলের গোলি থেকে ফ্রান্সের প্যারিস ( Biography in Bengali )

নেইমারের জীবনী : ব্রাজিলের গোলি থেকে ফ্রান্সের প্যারিস ( Biography in Bengali )

সবার খবর, স্পোর্টস ডেস্ক: ব্রাজিল। ফুটবল যাদের রক্তে মিলে মিশে একাকার। ব্রাজিলের মানুষ ফুটবলকে ভালোবাসে ধর্মের চাইতেও বেশি। পৃথিবীর এমন কোনো বড়ো ক্লাব নাই যেখানে ব্রাজিলের ফুটবলার খেলছে না। পর পর তিন বার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডটিও ব্রাজিলের নামের পাশে জলজল করছে। পৃথিবী বিখ্যাত সব প্লেয়ার উঠে এসেছে এই ব্রাজিলের মাটি থেকেই। পেলে, রোনাল্ডো, রিভাল্ডো, রোনাল্ডিনহ এবং বর্তমান যুগের সুপারস্টার ফুটবলার নেইমার জুনিয়ার। রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপে নেইমার ব্রাজিলের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছে। তারা ইতিমধ্যেই কোয়ার্টার ফাইনালে যায়গা পাকা করে নিয়েছেন। চলুন নেইমার সম্পর্কে কিছু কথা জেনে আসি।
নেইমারের গোল
নেইমারের সম্পূর্ণ নাম Neymar da Silva Santos Júnior. সাওপাওলোর মোগি ডাস ক্রুজ শহরে জন্মগ্রহন করেন ৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৯২ সালে। নেইমারের বাবা ছিলেন একজন ফুটবলার এবং তার ছেলে নেইমারকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন। তার বাবার নাম থেকেই তার নাম নেওয়া হয়েছে। তার বাবার নাম নেইমার সিনিয়ার।
নেইমার একজন পেশাদার ফুটবলার। নেইমার সাধারণত ফরওয়ার্ড বা উইংগার হিসেবে ব্রাজিল দলে খেলে থাকেন। ২০০৩ সালে নেইমার খেলা শুরু করেছিলেন পর্তুগুয়েসা স্যান্টিস্টা নামের ক্লাবের এক যুব দলে। তার খেলা দেখে মুগ্ধ হয় সকলে। ফলে ব্রাজিলের প্রথম সারির ক্লাব স্যান্টোস এফসি-এর চোখে পড়ে যায় এই খুদে। নেইমার এবং তার পরিবার মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে সে এখন স্যান্টোস এফসিতেই খেলবেন।
নেইমারের কার্ড
১৪ বছর বয়সে নেইমার রিয়্যাল মাদ্রিদের যুব টিমে খেলার অফার পান কিন্তু স্যান্টোস এফসি নেইমারকে বোনাস দেওয়ার ঘোষণার পরেই তিনি সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন এবং তার পুরানো ক্লাবেই থেকে যান। নেইমার আসতে আসতে প্রচুর পরিমাণে ফুটবল ম্যাচ খেলতে শুরু করেন। ব্রাজিল ফুটবল লিগে ওয়েস্টা নামের এক ক্লাবের সাথে ১৭ বছর বয়সে তার অভিষেক হয়। সেই বছর সব মিলিয়ে নেইমার মোট ৪৮ টি ম্যাচ খেলেন ক্লাবের হয়ে। তিনি এই সুযোগের সত ব্যবহার করতে ভোলেননি। ১৪ টি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন এবং দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে ওঠেন।
২০১০ সালে নেইমার ১৯ ম্যাচে ১৪ টি গোল করে দলকে Campeonato Paulista league জিততে সাহায্য করেন। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য তাকে লিগের বেস্ট প্লেয়ার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। নেইমারের এই সাফল্যের খবর বিদেশি ক্লাবগুলির কাছেও পৌছে যায়। নেইমারের কাছে সুযোগ চলে আসে স্পেন বা ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলিতে খেলার। কিন্তু স্যান্টোস নেইমারকে ছাড়তে রাজি নয়। তাই তার বেতনের ৫০% বৃদ্ধি করে দেয় ক্লাবটি।
নেইমারের জীবনী
নেইমার ২০১১ সালেও ট্রফি এনে দেন তার ক্লাবকে এবং দলকে ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যান। কিন্তু ফাইনালে তার পক্ষে জেতা সম্ভব হয়নি। সামনে যে ছিল মেসির বার্সিলোনা। ২০১১ সালে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলার অফ দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে তৃতীয় বারের মত league triumph জিততে সাহায্য করেন। তার ২০তম জন্মদিনে কেরিয়ারের ১০০তম গোলটি করেন নেইমার জুনিয়ার। পুনরায় নেইমার ২০১২ তে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলার অফ দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। এই সময় বিশেষজ্ঞরা বলতে শুরু করেন বর্তমান সময়ে নেইমার ব্রাজিলের সেরা প্লেয়ার এবং অনেকেই আবার মনে করেন তিনি শুধু ব্রাজিলের না, বিশ্বের এক নম্বর প্লেয়ার।
২৭ জুন, ২০১৩ তে নেইমার পাঁচ বছরের জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন ফুটবল ক্লাব বার্সিলোনার সাথে ৫৭ মিলিয়ান ইউরো অর্থাৎ ৪৫৯ কোটি টাকার বিনিময়ে। বিশ্বের সর্বোচ্চ দশম ট্রান্সফার ফি ছিল এটি। নেইমারের ইউরোপে খেলার স্বপ্ন পূর্ণ হলো। তিনি টিমমেট হিসেবে পেলেন মেসি, ইনিয়েস্তা, জাভি, পিকেদের মতো লিজেন্ডদের। নেইমার ক্লাবের জার্সি গায়ে যেমন সফল তেমনই আবার দেশের হয়েও সফল।
নেইমার
দেশের জার্সি গায়ে তার অভিষেক হয় ১০ আগস্ট, ২০১০ সালে আমেরিকার বিরুদ্ধে। তিনি সেই ম্যাচে ২৮ মিনিট মাঠে ছিলেন। সেই অল্প সময়ের মাঝেই সকলের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন স্কিলফুল ফুটবল দিয়ে। পরবর্তীতে নেইমার দলের নিয়মিত প্লেয়ার হয়ে ওঠেন। ২০১২ সালে নেইমার তার দেশকে অলিম্পিক থেকে সিলভার মেডেল নিয়ে এসে দেন। তিনি তিনটি গোল করেন। ২০১৩ সালে কনফেডারেশান কাপ ব্রাজিলেই অনুষ্ঠিত হয়। সেই টুর্নামেন্টে গোল্ডেন বল জিতে নেইমার। বর্তমানে নেইমার ফ্রান্সের ক্লাব পিএসজিতে 3.68 কোটি ইউরোর বিনিময়ে খেলছেন।
মোট ১৩৮ টি হলুদ কার্ড এবং ৮ টি লাল কার্ড পান তার কেরিয়ারে। একজন ফরোয়ার্ড হয়ে এই রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয় নেইমারের জন্যে। অপরদিকে নেইমার ক্লাবের হয়ে ৪৩৯ ম্যাচে ২৬৯ টি গোল করেন। দেশের হয়ে ৮৮ ম্যাচে ৫৫ টি গোল করেন।

বর্তমানে নেইমার এই পৃথিবীর সব চাইতে পরিচিত মুখ। ২১ বছর বয়সেই তাকে পেলে এবং রোনাল্ডোর সাথে তুলনা করা হয়। তার ফুটবল স্কিল এবং উইং দিয়ে অ্যাটাক অনেক ভক্ত তৈরি করেছে পৃথিবীতে। বড়ো বড়ো কম্পানি তার ওপর টাকা ইনভেস্ট করছে। যেমন নাইকি, প্যানাসনিক, স্যান্টানডার, ভগসওয়াগেন এবং আরও অনেকে। এখনও অনেক দিন তার ফুটবল ঝলক দেখবে সারা বিশ্ব।
আরও পড়ুন: প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল কোথায় কবে অনুষ্ঠিত হয়? প্রথম গোলদাতা, প্রথম হ্যাট্রিক এবং প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দেশ

Check Also

হরভজন বললেন আমরা হিন্দু মুসলমান খেলছি আর ক্রোশিয়া বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলছে

সবার খবর, স্পোর্টস ডেস্ক: এক মাস আগে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ শুরু হয়েছিল। গতকাল যার ফাইনাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *