Breaking News
Home / জানা অজানা / বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করতেন তবুও বিনা কোচিংয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ

বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করতেন তবুও বিনা কোচিংয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ

সবার খবর, ওয়েব ডেস্ক: উত্তর প্রদেশের বেরেলির পাশে একটি ছোটো গ্রামে থাকতেন হিমাংশু গুপ্তা। পড়াশুনা করার জন্য প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হতো তাঁকে। হিমাংশুর বাবা একজন দিনমজুর। আস্তে আস্তে তিনি একটি সাধারণ মানের দোকান করেন। যেটি বড়ো হয়েছে আজ কিন্তু তবুও তিনি সেই দোকানটি বন্ধ করেননি।

হিমাংশু গুপ্তা বলেন, প্রতিটি মানুষের মত তারও একটি স্বপ্ন ছিল। সেই লক্ষ্য পূরন করতে যেমনই কষ্ট হোক তা তিনি করতে রাজি ছিলেন। হিমাংশ গুপ্তা ২০১৮ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় ৩০৪ র‍্যাঙ্ক করেন। তার বন্ধুরা জানান, হিমাংশু গুপ্তা আইএএস হওয়ার জন্যে কোনো কোচিংয়ের সাহায্য নেয়নি। যখন হিমাংশু চায়ের দোকানে কাজ করতেন তখন এমনও কিছু মানুষকে তিনি দেখেছেন যারা টাকা পর্যন্ত গুনতে পারতেন না। তখনই তিনি শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করেন।

হিমাংশু বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর গ্রামে বা গ্রামের আশে পাশে পড়ার জন্য কোনো কলেজ ছিল না। তখন আমি বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে পড়ালেখা চালিয়ে যাবো। কিন্তু তাঁকে যে পড়তে হবেই। তাই তারপর তাঁর বাবার মোবাইল থেকে ভালো কলেজের ব্যাপারে গুগলে সার্চ করতে থাকেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তিনি তখন জানতে পারেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু কলেজে ভর্তি হন তিনি। উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো নম্বর পেয়েছিলেন তিনি। তাই সেখানে খুব সহজেই চান্স পেয়ে যান। যখন তিনি কলেজে আসলেন তখনই তিনি বুঝতে পারেন কম্পিটিশন খুব টাফ। সুতরাং প্রচুর পড়ালেখা করতে হবে।
ইউপিএসসির সফলতা
হিমাংশু বলেন, ওই সময় আমার বাবা বা পরিবারের তেমন আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না যে আমাকে পড়ালেখার খরচ পাঠাতে পারবে। তাই আমি টিউশান ও পেইড ব্লগ লিখে নিজের খরচ নিজেই চালিয়ে নিতাম। মাস্টার ডিগ্রি করার সময় হিমাংশু প্রায় সব কম্পিটিটিভ এক্সাম পাশ করে যান। সেই সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে টপ করেন। এই সমস্ত সফলতা দেখার পর নিজের ওপর আরও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় তাঁর। তিনি চাইলেই বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করে আরও সুন্দর ভবিষতের দিকে এগিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু হিমাংশু চাইতেন দেশে থেকেই বড়ো কিছু করতে হবে।

কোচিং ছাড়া হিমাংশু গুপ্তা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দেন। সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করার পরেও প্রথমবার তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি। এর মাঝেই আবার তিনি রিসার্চ স্কলার হিসেবে কাজ করতে থাকেন। ফলে হিমাংশুকে দুই দিকে সঠিক ভাবে সময় দিতে হচ্ছিল। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে হিমাংশু ২০১৮ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় ৩০৪ র‍্যাঙ্ক করেন। হিমাংশু বলেন, পরিবার আর্থিকভাবে কি অবস্থায় আছে বা শহর থেকে না গ্রাম থেকে এসেছেন, এগুলো আপনার সফলতার পথে কোনো বাধা হতে পারেনা। যদি আপনার স্বপ্ন বড়ো হয় তবে আপনি সব কিছু করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: অটো চালকের ছেলে ভারতের কম বয়সী আইএএস অফিসার

Check Also

বাড়ির উঠোনে গাছ

গাছ বাঁচাতে বাড়ির ছাদ ফুটো করে দিলেন পরিবারটি

সবার খবর, ওয়েব ডেস্ক: গাছকে আমরা কতটা ভালোবাসি? ঠিক জানা নেই! কিন্তু গাছ আমদেরকে প্রতিটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *