Breaking News
Home / জানা অজানা / ভাঙা ঘরে বাস! দুবেলা খাবার জুটতো না! সে আজ জেলাশাসক

ভাঙা ঘরে বাস! দুবেলা খাবার জুটতো না! সে আজ জেলাশাসক

সবার খবর, ওয়েব ডেস্ক:‘কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে’ লোকমুখে প্রচলিত একটি বাক্য। কিন্তু কথাটি শতভাগ সত্য তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন কানপুরের নতুন জেলাশাসক সুরেন্দ্র সিংহ। একটা সময় ছিল যখন সুরেন্দ্রর ভাঙ্গা ঘরে দুবেলা নিয়ম করে খাবার জুটত না। মাতা পিতা নিরক্ষর ছিল। যেমন তেমন করে সংসারটা টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। নিজে অশিক্ষিত ছিল বলে হয়তো পড়ালেখার মর্যাদা সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছিল সুরেন্দ্রর বাবা। তাঁর প্রতিদিনের সমস্যায় তাকে ছেলের শিক্ষার দিকে নজর দিতে সাহায্য করে। তার স্বপ্ন ছিল ছেলে একদিন ডিএম হবে। এই স্বপ্ন নিয়েই স্কুলে পা না রাখা মাতা-পিতা, সুরেন্দ্র কে স্কুলে ভর্তি করে দেন। সুরেন্দ্র এতটাই ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন যে, অনেকগুলি চাকরি পেয়েছিলেন কিন্তু তাকে যে ডিএম হতেই হবে। কোনো চাকরিতে সুরেন্দ্র যোগ দেননি। শেষ পর্যন্ত সুরেন্দ্র কানপুরের জেলাশাসক হয়ে যান।

সুরেন্দ্রর মা
সুরেন্দ্রর মা

জেলাশাসক সুরেন্দ্রর জন্ম

মথুরার শেদপুর গ্রামের গরিব কৃষক মহেন্দ্র সিং-এর পরিবারে ১৯৮২ সালে ছোট ছেলে সুরেন্দ্রর জন্ম হয়। তার বাবা এতটাই খুশি ছিল যে, বাচ্চা জন্মের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলে ওঠেন, আমার ছেলে ডিএম হবে। কিছু মানুষ বাবার এই কথা শুনে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ওঠে। হয়তো এই সব মানুষ ভেবেছিলো মহেন্দ্র সিং বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়াচ্ছে। মহেন্দ্র তাঁর দুই ছেলেকে সব সময় ভালোভাবে পড়ানোর চেষ্টা করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তারা দুজন। কিন্তু গ্রামে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা ছিল। সুরেন্দ্রর বড় ভাই জিতেন্দ্র পড়াশোনার জন্য দিল্লি চলে যান এবং পড়া শেষ করে সে শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত হন। সুরেন্দ্র অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামের পড়ালেখা শেষ করেন। তারপর স্বপ্নপূরণের উদ্দেশ্য বড় ভাইয়ের বাড়িতে পা রাখেন। দিল্লিতে সুরেন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিকের পড়ালেখা শেষ করেন।
সুরেন্দ্র

সুরেন্দ্রর পড়ালেখা

সুরেন্দ্র পড়ালেখায় খুবই ভালো ছিল। একদিন গ্রামের প্রধান ছোট্ট সুরেন্দ্রকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি বড় হয়ে কি হবে? নিরক্ষর পিতার ছেলে সুরেন্দ্র বলেন, আমার জন্মের সময় বাবা যা চেয়েছিল অর্থাৎ আমি জেলাশাসক হতে চাই। অন্য কিছু নয়। যেহেতু সুরেন্দ্র পড়ালেখায় খুব ভাল ছিল সেহেতু এই প্রশ্ন অনেকবারই তাকে করেছে। কিন্তু উত্তর একটাই আমি জেলাশাসক হতে চাই। দিল্লিতে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করে সুরেন্দ্র জয়পুর চলে আসেন। জয়পুরের মহারাজা কলেজ থেকে বিএসসি এবং এমএসসি শেষ করেন। সুরেন্দ্র কলেজের ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেন। তিনি রেকর্ড পরিমাণ নম্বর পান। তাই গোল্ড মেডেল নিয়ে কলেজ ছাড়েন সুরেন্দ্র। স্বপ্ন যেন আস্তে আস্তে এগিয়ে আসতে লাগলো।
ডিএম

সুরেন্দ্রর সফলতা

এবার সুরেন্দ্রর স্বপ্ন পূরণের পালা। এমএসসি কমপ্লিট করার পর সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডের পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন। তার সামনে এয়ারফোর্সের চাকরির হাতছানি। কিন্তু সুরেন্দ্র সেখানে জয়েন করেননি। কিছুদিন বাচ্চাদেরকে কোচিংয়েও পড়িয়েছেন তিনি। ওএনজিসি-এর মত বড় সংস্থায় উচ্চপদে চাকরির অফার এসেছে। কিন্তু সে সব দিকে নজর দেননি সুরেন্দ্র। তার স্বপ্ন যে জেলাশাসক হওয়া। তিনি সবসময় ভাবতেন আমি যে কোন বাধা অতিক্রম করে জেলাশাসক হবোই। সুরেন্দ্র জীবনে একটাই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। একবার নয় দুবার নয় তিন তিন বার সুরেন্দ্র বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। যেভাবে ছোটবেলায় না খেয়ে পড়ালেখা করেছেন সুরেন্দ্র তাঁর জায়গায় অন্য কেউ হলে নিশ্চয় এত বড় চাকরি ছাড়তেন না। কিন্তু সে ছিল সুরেন্দ্র, জেদি সুরেন্দ্র।
[Read More: ষষ্ঠ শ্রেণীতে ফেল, কোনো কোচিং ছাড়াই জীবনের প্রথম পরিক্ষাতেই IAS অফিসার]

সুরেন্দ্র এবার জেলাশাসক

শেষ পর্যন্ত সুরেন্দ্রর স্বপ্ন পূরণ হলো। ২০০৫ সালে সুরেন্দ্র ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। গরিব কৃষকের ছোট ছেলে এখন জেলাশাসক। সুরেন্দ্র সারাদেশে ২১ তম র্যা ঙ্ক করেন। সুরেন্দ্র নিজেও যেমন এগিয়ে গিয়েছিলেন ঠিক তেমন ভাবে বন্ধুদেরও সামনে এগুতে সাহায্য করেন। সুরেন্দ্র যা পড়ালেখা করতেন সে সব নোটস বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতেন। তিনি বিশ্বাস করেন মানুষের মধ্যে জ্ঞান ছড়ালে নিজেরও জ্ঞানের বৃদ্ধি ঘটে। ফলে সুরেন্দ্র নতুন নতুন বিষয়ের উপর বেশি বেশি জানতে লগল। ঠিক এই কারণেই হয়তো সুরেন্দ্র এবং তার দুই বন্ধু একসঙ্গে আইএএস হয়ে গিয়েছিলেন।
এত কষ্টের পর সুরেন্দ্র যখন কানপুরে জেলাশাসক তখন কিন্তু নিজের অতীত কালকে কোন সময় ভোলেননি। তিনি এখনও মাটির তৈরি চুলোতে খাবার দাবার রান্না করে খান। শাকসবজি তার প্রিয় খাবার। মাংসের ধারের কাছেও যান না। সুরেন্দ্র দিনে ১৯ ঘণ্টা কাজ করেন।
জেলাশাসক

জেলাশাসক হওয়ার পর গ্রামের অনুষ্ঠানে সুরেন্দ্র

সুরেন্দ্র সিং এর আদর্শ তার মাতা পিতা। যদিও মা এই পৃথিবী ছেড়ে অনেক আগেই চলে গেছেন। কিন্তু পিতার জ্ঞানের ভান্ডার থেকে এখনও সুরেন্দ্র কিছু না কিছু উপদেশ পেয়ে থাকেন। আইএএস হওয়ার পর সুরেন্দ্রকে গ্রামের মানুষ সম্মান জানানোর জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। প্রথমবারের মতো পিতা মঞ্চে জায়গা পেয়েছে। গরিব কৃষক বাবার চোখে জল চলে এসেছে। ট্রফিটা তো আজ সুরেন্দ্রর নয়। এটি তাঁর বাবার প্রাপ্য। সেদিন তিনি যদি স্কুলে ভর্তি না করে তার সঙ্গে ছেলেকে জমিতে কাজ করতে নিয়ে যেতেন তবে এই দিন হয়তো আর আসতো না। নয় বছর পূর্বে ৩ ফেব্রুয়ারি মিরাঠের গরিমাকে বিয়ে করেন সুরেন্দ্র সিং। তাদের সংসারে দুটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানও আছে। একজনের নাম জিয়া এবং অপরজন দিয়া। সুরেন্দ্র তার মেয়েকে নিয়ে বাবার মত একটাই স্বপ্ন দেখেন। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া। তাছাড়া সুরেন্দ্রর ইচ্ছে তিনি দেশের যুবকদেরকে সঠিক রাস্তা দেখানো।
আরও পড়ুন: সামোসা বিক্রি করার জন্য গুগলের চাকরি ছাড়লেন এই ভারতীয়

Check Also

যে কারণে দেড় কোটি টাকা লটারিতে জিতেও পেলেন না টাকা

সবার খবর, ওয়েব ডেস্ক: কথায় আছে না ‘দেনে ওয়ালা জাব দেতাহে তো ছাপ্পড় ফাড়কে দেতাহে’। …