Breaking News
Home / কবিতা / রবিবারের সান্ধ্য কবিতা আসর-১৫

রবিবারের সান্ধ্য কবিতা আসর-১৫

কবিতা

কবিতা

ছবি: অনির্বাণ পাল

দিলু নাসের-এর চারটি কবিতা

রাত্রি

উষ্ণ আগুনে গলে মধ্য রাতে কঠিন পাহাড়
কাঁপে মন ঝাউবন উপত্যকা
গলে চর.হলুদ পাথর
মধ্য রাতে আগুনের সোনালী তাপে।
আকর্ষিত জমি ভাঙে লাগলের তীক্ষ্ণ ফলা
হাসে চাঁদ, নক্ষত্র হাসে
কেঁপে উঠে কৃষ্ণছায়া
জোস্না পূর্ণিমা রাত।


রাত্রি গভীর, হিমেল রাত্রি
হাওয়ায় পাতারা কাঁপে
ফুলের পাপড়ি হয় যে লাজুক
চন্দ্রিমা উত্তাপে
রাত্রি গভীর,হিমেল রাত্রি
জোছনা প্লাবন ঝরে
হাড়ের আলো অনল জ্বালিয়ে
দেয় যে মাটির ঘরে
আগুনের তাপে কেঁপে উঠে হৃৎ
কেঁপে উঠে চরাচর
মাটির সঙ্গে মাটি মিশে যায়
জড়িয়ে মায়ার চাদর…

কতো আর পালাই

আর পালাতে ভালোলাগে না
কতো আর পালাই…
পালাতে পালাতে বহু দূর এসে গেছি।
প্রথম ঘর ছেড়ে পালিয়ে ছিলাম জৈন্তা পাহাড়ে
তারপর সীতাকুণ্ড, বাটালী পাহাড়
সাগর আর নদী পেরিয়ে হিমালয় ।
রাজস্থান, কান্দাহার ঘুরে ঘুরে
একদিন সাহারার কড়া রোদে পুড়িয়েছি নরম গতর
তারপর ভূমধ্য সাগরে ভেসে ভেসে
মিশে গেছি প্রাচীন ক্রিটে, এথেন্সে
হরপ্পা মহেনজোদারুর গন্ধ বুকে খুঁজেছি
সক্রেটিসের পদচিহ্ন
মধ্যরাতে গ্রানাডার জঙ্গলে লোরকার কবর ।
পালাতে পালাতে গেছি বহু দুর…
বার্সেলোনা, ভেনিস আর প্যারিসের ঝলমলে আলোর নীচে
উদভ্রান্ত নীলবিষে কেটেছে প্রহর।
পদ্মা মেঘনার জলজ ঘ্রাণ মুছে দিতে
বার বার ডুব দেই
টেমস, এব্রো আর রাইনের জলে।
পিকাডেলী,ম্যানহাটনে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে…
ছুটে গেছি ধুসর আরাফাতে
জন্মতৃষ্ণায় কালো পাথরে দিয়েছি চুম্বন।
কতো আর পালাই
পালাতে পালাতে পালিয়েছি মায়ের জরায়ন…

তোমার খোঁজে পৃথিবী ঘুরা

তোমাকে দেখিনি বহুদিন আমি, তোমাকে দেখি না আর
তোমার জন্যে মনের মধ্যে বহে শুধু হাহাকার
তোমাকে খুঁজি প্রতিদিনমান পথে আর প্রান্তরে
তোমার মুখের ছবি ভেসে উঠে বারবার অন্তরে
তোমার জন্যে সেই কবে থেকে আমি যে দেশান্তর
তোমার খুঁজেতে ঘুরেছি অনেক শহর আর বন্দর।
তোমাকে খুঁজেছি প্যারিসে গ্রীসে
বার্সেলোনা এবং ভেনিসে
পিকাডেলি আর ম্যানহাটনে জনারণ্যের ভিড়ে
তোমার জন্যে ঘুরছি বহু সাগর আর নদী তীরে।
এথেন্সে এক প্রাচীন মূর্তি দেখে হয়েছিলো ভুল
তুমি মনে করে বাঁধিয়েছিলাম সেখানে হুলস্তুল
বার্সেলোনায় পিকাসোর এক ছবির সামনে দাড়িয়ে
তুমি ভেবে ছোঁয়ে দেখতে চেয়েছি অজান্তে হাত বাড়িয়ে
জুরিখ মিলান ব্রাসেলস শহরে
আলো ঝলমল রাতের প্রহরে
তোমার বিরহে আমার এ মন
হয়েছে কেবলই কাতর
আমাকে বাঁধেনা ঘর
তোমার জন্য আমি যে হয়েছি
আজ এক যাযাবর।
যাযাবর বেশে ঘুরে দেশে দেশে
জীবনের কোলাহলে
এ জীবন আমার হলো যে বিনাশ
অলিক অনলে জ্বলে…

হেমলক

আমি তো দেখিনি সাগর কখনো
অথবা দেখিনি পাহাড়ও
এজীবনে আমি পাইনি কখনো
স্নিগ্ধ পরশ কাহারও।
এজীবন ছিলো ধু ধু প্রান্তর
শুধু বালি আর ধুলো
বহু বসন্ত এলো আর গেলো
ফুটেনি একটি ফুলও
নীল তৃষ্ণায় ঘুরতে ঘুরতে
জীবনের মাঝ প্রহরে
তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো
সুপ্রাচীন এক শহরে
পুরাণের সেই প্রেমের দেবতা
আফ্রোদিতির গ্রীসে
আমার হৃদয় রাঙালে যে তুমি
সে এক অলীক বিষে
সে বিষের বাণে এখানে এখনো
আমি যে জর্জরিত
নিজের কাছে নিজের শরীর
লাগে যে অপরিচিত
পাইনা তো ভেবে ভাগ্য আমার
কেন এতো প্রতারক
মানবীর রূপে তুমি এসেছিলে
বিষাক্ত হেমলক।

দুলে ওঠে

সো না লি বে গ ম

ড্রাগনের ওঠা-নামা চিনের মহান প্রাচীর
মরুভূমি ঘাসজমি পাহাড় উপত্যকা পূর্ব-পশ্চিম ––––
প্রাসাদ ছুঁয়ে পাথর অনুভব
ঘোড়ার খুরে ক্ষত তড়িৎগতি
ঝরে পড়ে বরফ-জল ডানায় ডানায়।
সুয়েজ ক্যানাল ভূমধ্যসাগর থেকে ভারত মহাসাগর
দুলে ওঠে জাহাজ বিশ্ববাণিজ্য
উপগ্রহ-চিত্র নীল-সবুজ খেলা।
অ্যাস্টেরয়েড ঘুরে যায় আপন খেয়ালে
সমুদ্রপাখির সূর্যদর্শন অস্থির কেবিনে

মুখোশধারীর উৎসব

পৃ থা রা য় চৌ ধু রী

গন্ধরাজের খেলা শুরু হলেই মনে হয় ভেসে আসবে গরম রুটির দেয়ালা
একান্নবর্তীর এক সমুদ্র উঠোনে গ্রাম দেশের আহ্লাদ,
সেখানে লুটোপুটি খাবে খান বিশেক অন্য অন্য মায়ের সন্তান সন্ততি…
এক পেটের।

জ্যৈষ্ঠ মাসের ব্রতকথার বই মুড়িয়ে ছোড়দি বলে উঠবে কোথাও থেকে
তিনবার জিজ্ঞেস করতে হয়, জয়মঙ্গলবার করা হলো?
একানে দুপুর নিজেকে প্রশ্ন করে বরং, হারিয়েছিলে… পেলে?

ব্রেস্ট ক্যানসারের মীরাদিদি, কেবল বাঁ দিকের সৌন্দর্য নিয়ে আসবে,
তালক্ষীর বানিয়েছি সবার জন্য… বলেই ডানদিক কপাটে চেপে দাঁড়াবে।
আহা দৃষ্টিরা বাড়িয়ে দেবে আহা’র তীব্রতা।

অল্প করে ভোর হাত বাড়ালে আসে নরম সবুজ ছেলেবেলা;
সামনে এসে দাঁড়ান আমার পুণ্যাত্মা ঠাকুরদা
ফিরে আসি নিজের ঘৃণিত তেজে… পুণ্যাত্মা সাজি আবার।

বার বার মামমামের প্রেমে পড়ব

সু ব্র ত হা জ রা

একবার আমি নিজেকে নিজেই চিঠি লিখব
তারপর আকাশের দিকে চুপকরে তাকিয়ে থেকে
দেখব কোনও রিপ্লাই আসছে কি না?

যদি কোনও উত্তর না পাই
অভিমান করে তিনদিন মামমামের সাথে আড়ি আড়ি খেলা খেলব।

ফুলেদের নামগুলি সব ভুল ভাল করে ডাকবো।
পাখিকে চাঁদ আর সূর্যকে পাহাড় নামে ডেকে হাসবো।
নদীকে পুকুর, সমুদ্রকে নালা বলে বিদ্রূপ করবো।
নিজের নামে একটি শহর কিনে ফেলব
সেই শহরে মাত্র দু-জনে থাকব।

কি মজা –
মামমামের নামে আস্ত একটি শহর!

আমি আবার, বারবার মামমামের প্রেমে পড়ব…

ইতিহাস

রা জে শ চ ন্দ্র দে ব না থ

সমস্তপদ রেখে দরজায়
লেপ্টে আছে সুগন্ধি রাত।
কাকতাড়ুয়া ভাসানে দীর্ঘ হচ্ছে
কাঁটাতারের ইতিহাস

আরও পড়ুন: রবিবারের ছোটগল্প কাকতালীয় লিখেছেন মোহাম্মদ জসিম

Check Also

অমিতাভ দাসের ছোটগল্প

রবিবারের ছোটগল্প শূন্য থেকে শুরু লিখেছেন অমিতাভ দাস

ছোটগল্প শূন্য থেকে শুরু অমিতাভ দাস Illustration: Preety Deb একটা লোক সেই থেকে চিৎকার করেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *