Breaking News
Home / কবিতা / রবিবারের সান্ধ্য কবিতা আসর-২০

রবিবারের সান্ধ্য কবিতা আসর-২০

আধুনিক কবিতা

কবিতা

ছবি: অনির্বাণ পাল

সুদীপ বাগ-এর পাঁচটি কবিতা

কাঙ্ক্ষিত

অধঃস্তন কর্মচারি বেঁচে থাকে লাঠি ঝাঁটার ডগে
ইতিহাস নির্মাতার ছায়া থাকে না ইতিহাসের পাতায়
নবান্নের দুয়ার খুলে বসে থাকা মন উজান টানে
ভর্তি দুপুরে কঙ্কালে উঠে আসে খাবার টেবিলে
পোড়া ছাই শষ্যের আল বেয়ে ঝরে সবুজ পাটক্ষেতে
ইউরোপ ঘেঁষা রাংতা মোড়ানো প্রনতিবাদী ব্যাখ্যা
কল্যানী মূল্যবোধ দুর্গ ভেঙ্গে ছোটে বোধের শত্রু দেখে
চেতনা দ্বিধান্বিত প্রতিপক্ষ বিদ্যমান গোঁফে তা দিয়ে হাসে
তবুও তাকে ফেরে ফেলে অন্তর্নিহিত ক্ষমতায় রেখে

পথে ঘুরে

পায়ে পায়ে শব্দ করে বুলেট অন্তিম হাওয়ায়
শাণিত দাঁত ধারালো হয়ে ওঠে কাপুরুষের বুকে
যৌবন বার্ধক্য জীবন কচলায় আমেরিকান দূতাবাসে
চামড়ায় বলিরেখা ওঠে কুঁচকে যায় শীতল হাতের ছোঁয়ায়
সারাটা জীবন বেলায় ভাবতে পারিনি কস্মিনকালে
এমন পরিণতি হবে ঝুপঝুপ টুপটুপ জীবন ঝরায়
চারিদিকে-এঁদো হয়ে যাবে শ্মশানভূমিও পাবেনা পাড়
এমন দিনের সন্ধিক্ষণে বসে ভাবনা তবু অসাড় গর্জন করার উপায় আছে তাই মিলেমিশে গর্জন করো

ক্ষণিক আশা

অপুষ্টিতে বোঁটা শুকিয়ে গেছে
হৃদয় নিয়ন্ত্রণ পুরাতন মদ্য পর্যটন তোমার
টইটই করে সর্বাঙ্গে আঁকা জন্মদাগ
ক্রমাগত দৃশ্যান্তর ঘটে প্রণয় ব্যস্ত হৃদয়
তুমি চলেছো অভিসারে পিছু ছাড়েনি তোমার জন্মদাগ
বিপদ বিশুদ্ধ দ্রুত বিচার সময়কালের সিলেবাস
স্পষ্ট চোখ শুধু অপেক্ষায় সারারাত সারাদিন
জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড ঝোলে স্পষ্ট চোখের ওপর
তবুও চোখ তাকিয়ে থাকে শুধু বিভোর হয়ে অপেক্ষায়

আদরে অনাদরে কাটা দিন

আড়মোড়া ভাঙে লালসার রাতে সর্পিল দেহ
পীতবর্ণের ফুটো কলসি আকাশ ছোঁয়ার ভান করে প্রমোদ সংস্থার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সবে শুরু
বাতাস পালক ওড়ে কাঁচা মাংসের লোভে ঠোঁটে জল
মানব সভ্যতা এগিয়ে চলে তার আকুতি অন্যখানে
সাধের চিতার অমানিশা ডেকে আনে অন্যসূত্রে
গোধূলি লগ্নে ঘুঘুর ডাকে অন্তিম অধ্যায় কাঁদে অব্যক্ত বেদনা অঝোরা বর্ষা নিজস্ব ধারায়
ফন্দির জাঁতাকলে পরিত্রাণের আশায় আপনজন
সাধ আছে সাধ্যের বাইরে পিছুটান হাঁটুগাঢ়ে

শেষ টান

সৌধ নির্মাণ করে শুধু শব্দ কসরতে বন্দি
বলয় আত্মস্থ উত্তীর্ণ পরিবর্তনের চিরায়ত
হুল্লোড় উপমা রূপকের মর্মান্তিক ট্রাজেডি
বরঞ্চ বিষন্নতায় স্পর্শবোধের ডালপালা ছড়ানো
নিরাভরণ পরিবর্তন ধারায় ঘ্রাণ ছড়িয়ে বেঁচে থাকা
ভোগহীন ক্রমশঃ উল্থান ভোগহীনতায় বিমূর্ত
আঙ্গিক ছাড়িয়ে নতুনের দিগন্তে অনিবার্য অভিঘাত

রবিবারের কবিতা

ছবি: অনির্বাণ পাল

রজতশুভ্র মজুমদার-এর দুটি কবিতা

গল্প হলেও সত্যি

ছেলে ভালো ছিল, কোনো দোষ ছিল না তো!
কাজ নেই বলে বাপ মানলে না তাকে
বিয়ে দিলে দূরে, তিনমাসে মেয়ে ঘরে
সোয়ামি নেয় না, বাপের বাড়িতে থাকে

নেয় না তা কেন? ওরাও তো লোক ভালো
বাপ বলেছিল, ওটাই তো তোর ঘর!
মেয়ে মনে মনে মানতে পারলে না তা
মনে ধরল না কালো কুচ্ছিত বর!

বর যদি হত কলির কেষ্ট তবু
শ্বশুরবাড়িতে টিকত কি তার মন?
পাড়ায় প্রবল কেচ্ছা কেলেঙ্কারি-
পরপুরুষেই মজে সে সারাক্ষণ

অথচ সে-ছেলে দেখাই করে না মোটে
স্মৃতি নিয়ে থাকে বেসেছিল যাকে ভালো
এদিকে মেয়ে তো বাপের অন্ন গেলে
একদিন সেই বাপও চোখ ওল্টাল

তারপর মেয়ে ছেলেটার কাছে গেল
বাতাসে পলাশ-কৃষ্ণচূড়ার দোলা
অবুঝ প্রিয়ার বেপরোয়া দেহমন
অবিন্যস্ত ব্লাউজের হুক খোলা

খুব চাপ দিল- আজই চলো চলে যাই
পথ বন্ধুর দু’চোখে রাতের কালো
নিরুপায় ছেলে, যতদূর জানি, শেষে
সেদিন রাতেই গায়ে আগুন ধরাল…

প্রতিবন্ধী

দুটো পা হাঁটুর নিচে থেকে নেই!
কাটা পড়েছে সে বেশ ক’বছর আগে!
শিক্ষিত ছেলে! কুলে কেউ নেই! রোজ
দুবেলা অন্ন জোটে না! করুণ রাগে

গান গেয়ে গেয়ে ট্রেনেই ভিক্ষে করে!
মিঠে গলা, গান শুনে বাবুরা যতটা
ক্ষমাঘেন্নায় ছুঁড়ে দেয় নিচে, তাই
দিয়ে পেট চলে! আজ কাঞ্চনে মোটা

লোকটা পয়সা দিতে না চাইলে তার
পাশে যে নরম রূপসী বউটি ছিল,
সে যখন প্রায় ছিনিয়ে নিয়েই ওই
হতভাগাটাকে দু’পয়সা ছুঁড়ে দিল

মুহূর্তে তার বুকে যেন বিদ্যুৎ
খেলে যায়, আর চোখ তুলে তাকাতেই
দ্যাখে, অপলক দুটো মায়াময় চোখ
স্থির বিঁধে আছে তার নীল দুচোখেই!

তাকে প্রাণভরে দেখছে, কিন্তু কথা
বলছে না কোনো! ছেলেটা মুগ্ধ হয়ে
আরও কাছে এল! লোকটা তখন দূরে
দরজার দিকে ভারী লাগেজটা বয়ে

নিয়ে যাচ্ছিল! তখনও সে-রূপসীর
অপ্রতিরোধ্য চোখের সম্মোহন
পাগল করছে তাকে! সে আর পারে না…
তারও তো প্রাণের ভেতরে একটা মন,

তারও তো দেহের ভেতরে একটা দেহ
ভালবাসবার বাসনায় উন্মুখ!
গভীর আবেশে সে তার একটা হাত
যুবতীর পায়ে জড়িয়ে নিবিড় সুখ

পেতে চায়! ঠিক তখনই সবিস্ময়ে
ভিড়ে ঠাসাঠাসি সিটের তলায় সেই
চিরম্রিয়মাণ মরিয়া হাতটা দ্যাখে,
যুবতীর দুটো পায়ের পাতাই নেই…

হালিম নজরুল-এর চারটি কবিতা

ঈশ্বরের মৃৎশিল্প

একটা মৃৎখন্ডে ফুলকি ঢুকিয়ে দিলেন ঈশ্বর,
বললেন পরমাত্মার আলো জ্বেলে দাও চতুর্দিক।

অত:পর ধ্যানমগ্ন ঈশ্বর।

ধ্যানান্তে ফিরে দেখেন চৌদিকে গহীন অন্ধকার।
মৃৎখন্ডে চোখ মিলতেই ঈশ্বরের চোখ ছানাবড়া,
দর্পণে ভেসে উঠছে ইবলিশের প্রেতাত্মা!
ঈশানে কুকুর,নৈঋতে হায়েনা,
অগ্নিতে সর্প,বায়ুতে হাঙ্গর,
পূর্ব,পশ্চিম,উত্তর,দক্ষিণ,উর্ধ্ব,অধ:
দশ দিগন্তে কেবল শয়তানের অপছায়া!

দোহাই ঈশ্বর এই মৃৎখন্ডে আরেকটি ফুলকি ঢুকিয়ে দাও
তোমার অনলে পুড়ে খাঁটি হোক আমাদের মানবাত্মা।

পচনের সুখ

উড়ে যাওয়া কাকের বিরতিহীন শোক সংবাদে
বুড়িমার চোখ আওড়ায় গলিত মৃতদেহ।
ভাগাড়ে শকুনের উলঙ্গ উচ্ছ্বাস,
মধ্য দুপুরে সূর্য হারাবার শোক,
গোলাপের বাগানে এমন দুর্গন্ধ কিসের?

নাহ!কোন লাশ নেই,কোন জীবাশ্ব নেই,
কতগুলো মানুষের অমানুষ হবার গন্ধ প্রকট।

দখল জয়ে দেখো কেমন শোক বিলায় অবলীলায়।
হাটের পরে মাঠ,মাঠের পরে ঘাট,
অতঃপর ওরা পৌঁছে গেল যোনীপথে।
ওখানেও ওদের মৃত্যুর সুখ!
ওখানেও ওদের পচন আনন্দ।

মরে যাবি মানুষ? মরে যা।
পচে যাবি মানুষ! পচে যা।
মৃত্যুর বদলে টেনে আন আতরের সুবাস।

সুখের আয়নায় কষ্টের প্রতিচ্ছবি

নুয়ে পড়া বিকেলটা শূন্যের কাছে জমা থাক,
অন্ধকারের চাপা কষ্ট হোক যাত্রার সঙ্গী।
সময়ের কাছে সপে দেওয়া সুখগুলো
খুঁজে নিক নিরাপদ ঠিকানা।
সূর্যটাকে মুঠোয় পুরে…
আমি না হয় অন্ধকারে এসে অন্ধকারেই ফিরে যাই,
গহীন বুকে জমা থাক উচ্ছিষ্ট আকাঙ্ক্ষা,অতৃপ্ত বাসনা।

ডানপিটে স্বপ্নগুলো হেঁটে যাক ক্লাইমেক্স কবিতায়,
ভায়োলিনে বাজুক গোধূলির শব্দচয়ন,
তবুও সেটা গান হোক…
টাইটানিক ডুববার চিত্রকল্প সঙ্গী করে।
আমি সুদূর সৈকতে একাকী দাঁড়িয়ে থাকবো
আবার একটা নতুন সূর্য দেখবার প্রতীক্ষায়।

মহারাণীর প্রেমে

মনের ভাঁজে জোস্নাপ্রপাত চুলের ভাঁজে ফুল
বুকের ভাঁজে সুখের অসুখ প্রণয়ে আকুল।
চোখের ভাঁজে লাজুক লতা ঠোঁটের ভাঁজে চাঁদ
বাহুর ডোরে বিনাশী ঢেউ মায়াবী এক ফাঁদ।

দুই বিনুনি মনহরণী আলতা রাঙা পায়
রূপের আগুন আনলো ফাগুন মনের আঙিনায়।
বচন যেন মিষ্টি মধু যাদুর পরশ হাতে
এমন ফুলের ঘ্রাণ নিতে চায় জ্বোনাক জ্বলা রাতে।

এরূপ চাঁদে পড়লে নজর মাতাল মনের ঘর
বিভোর নদী উথলে ওঠে মাতাল সরোবর।
একুল ভাঙে ওকুল ভাঙে স্বপ্ন কাটে সিঁধ
বালুর চরে বাঁধছে যেন স্বপ্ন নানাবিধ।

মহারাণীর আঁচল যেন একক বাঁচার ঠাঁই
তার বুকেতে মুখটা গুঁজে প্রাণের দিশা পাই।

একটি সান্ধ্য স্কেচ

বিদ্যুৎলেখা ঘোষ

বৈশাখী সন্ধ্যার ভেজা বাতাস আর

জানলার উথাল পাথাল পর্দার যত পরামর্শ

ছড়িয়ে গেল নতুন ধারাপাতে

রিক্সোর হুড খুলে দিলাম

মাথা মুখ চুল সর্বশরীর বেয়ে

সেসব গোপনীয়তা শুষে নিতে চাইছে বাতাস

পর্দার হা হুতাশে মিলিয়ে যাচ্ছে

ক্রমশ ডার্ক মেরুন অস্তরাগ

রিক্শো এগিয়ে নিয়ে চলেছে নিভৃত চালক…
Read More: রবিবারের সান্ধ্য কবিতা আসর-১৯

Check Also

উপন্যাস খাতা ২য় পর্ব

ধারাবাহিক উপন্যাস খাতা লিখেছেন দেবশ্রী চক্রবর্তী : পর্ব-২

ধারাবাহিক উপন্যাস খাতা দেবশ্রী চক্রবর্তী Illustration: Preety Deb রাত পৌনে বারোটা নাগাদ তিতির চার্চের সামনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *